টুরিজম স্পর্ট সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত

টুরিজম স্পর্ট সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য জেলার রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজারে শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। অপরদিকে, সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
রোববার (২৫শে অক্টোবর) বিকেল ৩টার সময় সাজেকের মাচলং চাপ্পাতুলি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘যে বাহিনী হামলা করে সে বাহিনী মানি না; সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস চলবে না, চলবে না; সাজেকবাসীর অবরোধ চলছে, চলবে; উজোবাজারে হামলা কেন প্রশাসনের জবাব চাই” ইত্যাদি শ্লোগান দেন এবং “সন্ত্রাসীদের মদত দান বন্ধ কর; উজোবাজারে হামলাকারী সেনা সদস্যদের শাস্তি দাও; সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র দলদের সরিয়ে নাও; উজোবাজারে সেনাবাহিনীর হামলা নিন্দা জানাই; সন্তু সন্ত্রাসী হুমকি দেয় আর সেনাবাহিনী হামলা চালায়” ইত্যাদি দাবি ও শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
মিছিল থেকে তারা অন্যায় দমন-পীড়ন বন্ধ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
এর আগে সকাল থেকে সাজেক পর্যটন সড়কের বাঘাইহাট ১০নম্বর, গঙ্গারাম দোপদা, ২নং কালভার্ট ও মাচলং চাপ্পাতুলিসহ কয়েকটি জায়গায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালন করা হয়। গত ২২শে অক্টোবর থেকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই অবরোধ পালিত হচ্ছে।
ঘটনার বিবরনে যানা যায়, গত ২২শে অক্টোবর নিরাপত্তা বাহিনীর মদদে জেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা(যেগুলো প্রশাসন মেনে নিয়েছিল) বাস্তবায়নের দাবিতে সাজেকের উজোবাজারে শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনাবাহিনী অবরোধকারী জনতার ওপর হামলা, লাঠিপেটা, দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট ও গুলিবর্ষণ করে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহতসহ এলাকার ৭০জনের অধিক নারী-পুরুষ আহত হন।
সেনাবাহিনীর হামলার প্রতিবাদে সাজেকে ৫ম দফা সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকলেও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের প্রবারনা পুর্নিমা উৎসব চাকমা-বড়–য়াদের রোববার, মারমা-রাখাইনদের সোমবার ধর্মীয় কর্মসূচী থাকায় আংশিক দুইদিন শিথিল করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ–অধিকার রক্ষা কমিটির আহŸায়ক বাবুধন চাকমার স্বাক্ষরিত জানানো হয়েছে।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আহূত তৃতীয় দফার থেকে সড়ক অবরোধে সেনাবাহিনীর নির্বিচারে লাঠিচার্জ, বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দ।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহŸায়ক বাবুধন চাকমা ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গত ২২শে অক্টোবর সড়ক অবরোধের সমর্থনে নারী-পুরুষসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উজো বাজারসহ কয়েকটি স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় মাচালং ক্যাম্পের একজন মেজর অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলার নামে সবার সামনে পিসিজেএসএসের পক্ষে বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাঠি হাতে অবস্থান নেওয়া সেনাসদস্যদের রাস্তায় অবস্থানরত শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর হামলা চালানোর নির্দেশ দেন।
সেনাসদস্যদের অতর্কিত হামলা ও নির্বিচারে লাঠিপেটায় নারী অবরোধকারীসহ অনেকে আহত হন। একপর্যায়ে সেনাসদস্যরা সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করেন এবং ফাঁকা গুলি ছোড়েন।
নেতৃদ্বয় শান্তিপূর্ণ অবরোধে সেনাবাহিনীর এই হামলাকে ২০১০সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আখ্যায়িত করে বলেন, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে হামলা, ভাঙচুর ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনী আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। এটি সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
নেতৃদ্বয় অভিযোগ করে বলেন, “সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি অনুযায়ী, এলাকা থেকে পিসিজেএসএস সন্তু লারমা গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের অত্যাচার ও সশস্ত্র সন্ত্রাস বন্ধ করার পরিবর্তে উল্টো নিরীহ সাজেকবাসীর ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।”
বিবৃতিতে তাঁরা অবিলম্বে হামলার জন্য দায়ী সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার এবং পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি, তাঁরা অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অবরোধকারীরা খাগড়াছড়ি দীঘিনালা-সাজেক সড়কের জোড়াব্রীজ এলাকা, সাজেক পর্যটন সড়কের বাঘাইহাট ১০নাম্বার, মাচলং ১৪কিলোসহ বিভিন্ন সড়ক টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া এলাকায় গাছ কেটে সড়ক আটকে দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধে কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ‘গোলাগুলির’ ঘটনার পর থেকে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এলাকায়। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট।
উপজেলার বাঘাইহাট বাজার এলাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বেশির ভাগ দোকানপাটও বন্ধ। কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই। বাজার প্রায় লোকশূন্য। যদিও স্বাভাবিক সময়ে ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর থাকে বাজারটি। রাংগামাটি সাজেকে চলছে না যানবাহন, মফস্বল এলাকায় খোলা থাকলেও আংশিক বন্ধ রয়েছে রাস্তার পার্শের দোকানপাট।
অবরোধের কারণে দূরপাল্লার যানবাহন চলচল সম্পুর্ন বন্ধ রয়েছে। সাজেক বাঘাইছড়ি থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। সড়কেও মানুষের যাতায়াত কম। বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা বের হয়েছেন তাঁদের হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়। যানবাহন চলাচল না করায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। সড়কে যান চলাচল বন্ধ।
রোববার (২৫শে অক্টোবর) সকাল ৫টা থেকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুড়িতে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটাররা অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন। সড়কে টায়ার ও গাছের গুড়িতে আগুন জ্বালিয়ে এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অনির্দিষ্ট অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন পিকেটাররা।
রাঙামাটির সাজেকে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ ও ঘরবাড়ি-দোকান ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ এই অবরোধ অব্যাহত কর্মসূচি পালন করেছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধ অব্যাহত রয়েছে কিন্তু যানবাহন চলাচল করছে না। সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
হামলার প্রতিবাদে সাজেকে মশাল মিছিল, ক্ষোভে ফুঁসছেন আন্দোলনকারীরা:-গত ২২শে অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে হামলা, লাঠিপেটা, বাড়ি-দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে ও সাজেক থেকে সন্তু লারমা গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সাজেকে বিশাল মশাল মিছিল করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন।
গত শনিবার (২৪শে অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাজেকের বাঘাইহাট ১০নম্বর এলাকায় মশাল মিছিলটি আয়োজন করা হয়। এ সময় মিছিলকারীরা সেনাবাহিনী ও সন্তু গ্রæুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।
শ্লোগানগুলোর মধ্যে রয়েছে, “যে বাহিনী হামলা করে, সে বাহিনী মানি না; যে সরকার হামলা করে, সে সরকার মানি না; সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস চলবে না, চলবে না; বোনের ওপর হামলা কেন, তারেক সরকারের জবাব চাই” ইত্যাদি।
সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির পক্ষে বঙ্গলতলিতে মশাল মিছিল:- সাজেকবাসীর ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ও তাদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে মশাল মিছিল করেছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। গত শনিবার(২৪শে অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় বাঘাইছড়ির বঙ্গলতলিতে এই মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এ সময় তারা “উজোবাজারে হামলা কেন, তারেক সরকার জবাব দে, পিসিজেএসএস সন্ত্রাসীদের মদত দান চলবে না, বোনের উপর হামলা কেন, তারেক সরকার জবাব দে, যে বাহিনী হামলা করে সে বাহিনী মানি না, সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস চলবে না চলবে না, আমার দোকান ভাঙলো কেন প্রশাসনের জবাব চাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুলি বর্ষণ মানি না মানবো না” ইত্যাদি শ্লোগান দেয়।
মিছিলের পর সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন যুব প্রতিনিধি ও ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সদস্য রতœ জ্যোতি চাকমা ও সমাজ সেবক লক্ষী চাকমা। তারা সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং হামলায় জড়িতদের শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।
তারা বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলে থাকে তাদের কাজ হলো সন্ত্রাস দমন করা। কিন্তু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছে তাদেরকে লাঠিপেটা করে আহত করছে। এটা আমরা কোন দেশে বাস করছি?” দুই বক্তা অবিলম্বে সাজেকবাসীর ন্যায্য ৫দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহŸান জানান।
এছাড়া তারা আন্দোলন থেকে সরে না যাওয়ার জন্য সাজেকবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনারা একা নন, আমারা আপনাদের সাথে আছি, পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ আপনাদের সাথে আছে। বিশ্বের সকল বিবেকবান মানুষ ও মানবাধিকার সংগঠন আপনাদের সাথে আছে।”
কুমারী পাড়ায় ৬গ্রামবাসীর বাড়িতে সেনাবাহিনীর তল্লাশি, হয়রানির অভিযোগ:-খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার কুমারী পাড়ায় ৬গ্রামবাসীর বাড়িতে সেনাবাহিনী তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি ও এক বাসিন্দাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার(২৪শে অক্টোবর ২০২৬) ভোর ৪টার দিকে ২০থেকে ২২জন সেনাসদস্যের একটি দল পাড়াটিতে প্রবেশ করে। সেনাসদস্যদের সঙ্গে মুখোশধারী আরও চার ব্যক্তিও ছিলেন বলে স্থানীয় জানিয়েছেন। এর মধ্যে সজল ত্রিপুরা ওরফে সুবেল নামে একজনকে চেনা গেল প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে সেনারা পাড়ার ৬বাসিন্দার বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং পরিবারের লোকজনকে নানা জিজ্ঞাসাবাদ করে হয়রানি করে।
তল্লাশির শিকার ব্যাক্তিরা হলেন-১. হৃদয় ত্রিপুরা(২২), পিতা: রবি মোহন ত্রিপুরা; ২. দেবলক্ষী ত্রিপুরা(৪৬), স্বামী: মৃত সূর্যকুমার ত্রিপুরা; ৩. নরেন্দ্র ত্রিপুরা(৪২), পিতা: বিশিরাম ত্রিপুরা, পেশায় চিকিৎসক; ৪. যুদ্ধ ত্রিপুরা(৫২), পিতা: দয়ারাম ত্রিপুরা ও ৫. গতীন্দ্র ত্রিপুরা(২৯), পিতা: যুদ্ধ ত্রিপুরা ও ৬. রবি মোহন ত্রিপুরা(৪০), পিতা অতিরাম ত্রিপুরা।
স্থানীয়রা আরো জানান, সেনারা হৃদয় ত্রিপুরার বাড়িতে তল্লাশির সময় তাঁকে ইউপিডিএফের পক্ষে কাজ করার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এ সময় তাঁর দুই সন্তানের কথা উল্লেখ করে তাঁকে সতর্ক করা হয় এবং ‘ভবিষ্যতে আর ছাড় দেওয়া হবে না’- এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী দেবলক্ষী ত্রিপুরার অভিযোগ, সেনাসদস্যরা তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে। এ সময় তাঁকে বিকাশ ত্রিপুরাকে চেনেন কি-না, তা জিজ্ঞাসা করা হয়। পরে তাঁর মেয়ের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে বিকাশ ত্রিপুরাকে কল করে অস্ত্র কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
সেনারা নরেন্দ্র ত্রিপুরার কাছ থেকে ইউপিডিএফের কোনো সংগঠক বা সদস্য এলাকায় রয়েছেন কি-না এবং তিনি বিকাশ ত্রিপুরাকে চেনেন কি না, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ ত্রিপুরাকে তাঁর ছেলে-মেয়ের সংখ্যা ও তাঁরা বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় বলে জানা গেছে।
গতীন্দ্র ত্রিপুরার বাড়িতে তল্লাশির সময় সেনারা ‘হৃদয় ত্রিপুরার অন্য কোনো নাম রয়েছে কি-না, সুরেশ এিপুরা নামে কাউকে চেনেন কিনা’ ইত্যাদি প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আর রবি মোহন ত্রিপুরার বাড়িতে তল্লাশির সময় তাঁর ছেলে হৃদয় ত্রিপুরা কী করেন, তা তিনি জানেন কি-না, সে বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। একই সঙ্গে হৃদয় ত্রিপুরাকে ইউপিডিএফের সংগঠকদের সঙ্গে মেলামেশা না করার কথা বলতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেনাবাহিনীর এমন হয়রানিমূলক তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় পাড়াবাসীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সাজেকবাসীর ৫দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহŸান সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির:- সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। গত শনিবার(২৪শে অক্টোবর ২০২৬) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহŸায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ২২শে অক্টোবর শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের উপর হামলার প্রেক্ষিতে জনগণের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো: ১) গত ২২শে অক্টোবর ২০২৬ শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের উপর বিনা উস্কানিতে হামলার সাথে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে এবং গোলাগুলির মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ৩০জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০০জনের নামে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
২) উজো বাজারের স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উজোবাজার থেকে সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরকে সরিয়ে নিতে হবে।
৩) সেনাবাহিনী কর্তৃক যে সকল নারী-পুরুষকে মারধর করে আহত করা হয়েছে তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ভার গ্রহণ করতে হবে।
৪) সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পিসিজেএসএস সন্তু লারমা গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে অতি দ্রæুত সরিয়ে নিতে হবে। তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে।
৫) আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের কাউকে সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে গ্রেফতার, হয়রানি ও তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি করা যাবে না।
সাজেকের পরিস্থিতি তুলে ধরে বিবৃতিতে তারা বলেন, দিন-রাত এখনও উজোবাজার এলাকা ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। বাজারে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। দোকানে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে। লুটের মাল গাড়িতে করে নেওয়া হয়েছে। অত্যাচারের ভয়ে উজোবাজার এলাকা থেকে শতাধিক পরিবার ঘর ও দোকান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
গত শনিবার সকালে ডিপু পাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝর্ণা চাকমাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়েছে। গত ১১ই অক্টোবর সড়ক অবরোধের সময় সাংবাদিকদের সামনে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাকে কল্পনা চাকমার মতো অপহরণ বা গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়েছে।
বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা অবিলম্বে সাজেকবাসীর পাঁচ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহŸান জানান। তারা বলেন, দমনপীড়ন চালিয়ে সাজেকবাসীর ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে দমন করা যাবে না।
মাচলঙে বাড়ি তল্লাশির অভিযোগ, আটকের চেষ্টা এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝর্ণা চাকমাকে:- রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের মাচলঙে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ দল ডিপুপাড়ার বাসিন্দা আনন্দ মোহন চাকমার বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি চালিয়ে তার মেয়ে ঝর্ণা চাকমাকে আটকের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার(২৪শে অক্টোবর ২০২৬) ভোর ৫টার সময় মাচলঙ সেনা ক্যাম্প ও থানা থেকে সেনা-পুলিশের একটি যৌথ দল মাচলঙ ডিপুপাড়ার বাসিন্দা আনন্দ মোহন চাকমার বাড়ি ঘের্ওা করে তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা তার মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝর্ণা চাকমাকে আটকের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ঝর্ণা চাকমার মায়ের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি হলে ঝর্ণা চাকমা সরে যেতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: তোফাজ্জল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাচলং সেনা ক্যাম্প থেকে আমাকে পুলিশ ফোর্স পাঠাতে বলা হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় গঙ্গারাম উজোবাজারে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী এসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা পিকেটিং করছে সেখানে যেতে হবে। পুলিশ ফোর্স পাঠানোর পর তারা যে ঝর্ণা চাকমাকে বাড়িতে যাবে তা আমার জানা ছিল না।
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট বলেন, সাজেকে সড়ক অবরোধকারী আন্দোলনরত জনতার ওপর সেনাবাহিনীর এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণের ঘটনাকে পাহাড়ে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নগ্ন দমন-পীড়নের প্রতিচ্ছবি বলে মন্তব্য করেছে। একই সাথে সাজেকে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট নিরসন এবং হামলার সঙ্গে জড়িত সেনা সদস্যদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার(২২শে অক্টোবর) রাঙ্গামাটির সাজেকে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘকাল ধরেই রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে ‘সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী’ তকমা লাগিয়ে সেনাবাহিনী প্রতিনিয়ত নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
সা¤প্রতিক সময়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে জোট নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছিলেন‘ পাহাড়ে শতভাগ মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়’। দেশ রক্ষা ও নাগরিক সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীর এমন বক্তব্য কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের মন্তব্য মূলত পাহাড়ি জনগণের ওপর চলমান নিপীড়নকে প্রকাশ্যে আইনি বৈধতা দেওয়ারই সামিল।
যার ফলে খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকতায় সাজেকেও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী নিজেদের স্বার্থে ও গণবিরোধী কর্মকান্ড জায়েজ করতে মদদপুষ্ট সশস্ত্র প্রক্সি গ্রæুপ তৈরি করে পাহাড়ে অরাজকতা টিকিয়ে রাখছে। সাজেকবাসী জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সেনাপোষ্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষকে তল্লাশি ও হয়রানি বন্ধের ৩দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে সেনাবাহিনী চড়াও হয়ে লাঠিচার্জ ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।
এ ববর হামলায় অন্তত ৬০জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সাজেকের উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের ওপর এ হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশে বর্তমানে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট পাহাড়ি জনগণের এই ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। একই সাথে অবিলম্বে এ কৃত্রিম সংকট বন্ধে সরকারকে দ্রæুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহŸান জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন-গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ও সভাপতি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিকী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী সভাপতি শাহরিয়ার খন্দকার আলিফ, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) সভাপতি সমর চাকমা এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দীন।
সংগঠন দুটির তৃতীয় দফায় ডাকা অবরোধের প্রথম দিনেই গতকাল গত বৃহস্পতিবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গতকাল সকাল থেকেই সাজেকের উজো বাজার এলাকায় অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
অবরোধকারীরা পর্যটকবাহী গাড়িবহর চলাচলে বাধা দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সরিয়ে দিলে গাড়িবহর এগিয়ে যায়। এরপর বেলা ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ মিথ্যা নাটক ও নিজের গুলি করে অপরকে দায় দেওয়া অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ। এ উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল বেলা একটার দিকে সাজেকে আটকে পড়া ২হাজার ৯৩৩পর্যটককে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফেরার পথে অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
সাজেক চালুর দাবিতে ৪৮ঘণ্টার আল্টিমেটাম, পাল্টা সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি:-
পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে চলমান সড়ক অবরোধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন খাগড়াছড়ির পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহন নেতারা। আগামী ৪৮ঘণ্টার মধ্যে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রæুত অবরোধ প্রত্যাহার না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শুক্রবার(২৩শে অক্টোবর) বিকেলে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়।
শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের দ্ব›েদ্ধ বারবার বন্ধ হয়ে পড়ছে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম। এতে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, চালক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, যা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রটির ভাবমূতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অবরোধের দ্বিতীয় দিনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে অবরোধের সমর্থনে কোনো মিছিল বা পিকেটিংও দেখা যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ৪৮ঘণ্টার মধ্যে সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি ও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিতে পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী অবরোধে পর্যটন খাতের ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
এর আগে ১৫ই অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণ–অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। বাঘাইহাটের ১০নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম সেতু ও মাচলঙের ১৪কিলোসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে সাজেকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(পিসিজেএসএস)। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ইউপিডিএফের চাপে সংগঠন দুটি অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাজেকে প্রসিতপন্থী ইউপিডিএফ কৃত্রিম ইস্যু সৃষ্টি করে আন্দোলনের নামে জনগণের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে:-পার্বত্য চুক্তি বিরোধী প্রসিতপন্থী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে কৃত্রিম ইস্যু সৃষ্টি করে জোরপূর্বক জনগণকে সড়ক অবরোধে নামিয়ে জনগণের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে, জনগণকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত পাওয়া যাচ্ছে।
অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, স¤প্রতি সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে প্রসিতপন্থী ইউপিডিএফ সাজেক এলাকায় মূলত যে ইস্যু নিয়ে সড়ক অবরোধ করছে সেটা আদৌ জনগণের ইস্যু নয়, জনগণের আন্দোলন নয়। জনগণকে জোরপূর্বক সেখানে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই তথাকথিত আন্দোলনে জনগণের কোনো স্বার্থ নেই।
এইসব পর্যবেক্ষকদের মতে, সাজেক এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা, উন্নয়ন, নিরাপত্তা, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ইত্যাদি ইস্যুতে আন্দোলন প্রয়োজন হলেও, ইউপিডিএফের পকেট সংগঠনগুলো তা না করে ইউপিডিএফের সংকীর্ণ স্বার্থে আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
অপরদিকে, সাজেকের ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা নানা হুমকি দিয়ে, জোরজবরদস্তি কওে গ্রামবাসীদের মিছিল, সমাবেশ ও অবরোধে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করে। ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা এই ঘোষণা দিয়েছে যে, এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করলে ১০হাজার টাকা জরিমানা এবং ১০বেতের শাস্তি দেওয়া হবে।
এমনকি কোনো পরিবার যদি কোনো কারণে এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে না পারে, তাহলে সেই পরিবারকে দৈনিক মজুরি দিয়ে হলেও অন্য লোক ভাড়া করে কর্মসূচিতে পাঠাতে হবে বলে নির্দেশ দেয় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা।
এছাড়া ইউপিডিএফের কর্মীরা এটাও ঘোষণা করে যে, তাদের ডাকা মিছিল, সমাবেশ ও অবরোধে যারা অংশগ্রহণ করবে, তাদের ভাত, নাশতা এবং ১,০০০টাকা বকশিশ দেওয়া হবে। আর যারা অংশগ্রহণ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউপিডিএফের সশস্ত্র কর্মীরা গ্রামবাসীদের ভয় দেখিয়ে বলে যে, “আমরা যদি সাজেক এলাকায় থাকতে না পারি, তাহলে এই সাজেক এলাকায় শান্তিবাহিনী থাকলে তোদের ঘরে আগুন দেবে, তোদের মেরে ফেলবে। কারণ, তোমরা সবাই মিছিল-সমাবেশে গেছো, পিসিজেএসএস দেখে ফেলেছে। তারা তোদের ক্ষমা করবে না।”
তারা গ্রামবাসীদের এটাও বলেছে যে, “যেকোনোভাবে মিছিল, সমাবেশ ও অবরোধের ডাক দিয়ে হলেও সেনাবাহিনীর অভিযান পরিচালনার দাবি জানাতে হবে।”
ইউপিডিএফের কর্মীরা আরও নির্দেশ দেয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতে হলে পিসিজেএসএসের বিরুদ্ধে পোস্ট করতে হবে, নাহলে আইডি শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তারা গ্রামবাসীদের সতর্ক করে বলেছে যে, “আমরা যে এসব কথা বলেছি, তা যেন বাইরে প্রকাশ না হয়।” তবে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা এই আশ্বাস দিয়েছিল যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে মামলা হলে বা হয়রানি করা হলে ইউপিডিএফ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, তারা থাকার জায়গা দেবে বলেও জানিয়েছে।
স¤প্রতি সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে সাজেকের মাচলং বাজার ও উজো বাজার এলাকায় কয়েক দফায় ইউপিডিএফের নির্দেশে ও মদদে সড়ক অবরোধ শুলু হয়। সাজেকের মাচলং এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে তথাকথিত ‘পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেয়া’র দাবিতে গত ১১ই অক্টোবর এই সড়ক অবরোধ শুরু করা হয়।
দুর্গোৎসবের কারণ দেখিয়ে ১৬-২১শে অক্টোবর সড়ক অবরোধ স্থগিত করা হয়। গত ২২শে অক্টোবর থেকে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলাব্যাপী এই সড়ক অবরোধ স¤প্রসারণ করা হয়। তবে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির অধিকাংশ এলাকায় এই সড়ক কার্যকর হয়নি বলে পিসিজেএসএস দাবি করেছে। যে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন সাজেকবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে, সেই ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরাই আবার জেএসএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ ডাকাকে অনেকেই হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন।
সাজেক ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা খুন, অপহরণ, হয়রানি, বেপরোয়া চাঁদাবাজি, গ্রামবাসীদের বেগার খাটানো, কথায় কথায় বাজার অবরোধ, সড়ক অবরোধ, জনগণের সম্পত্তি ধ্বংসসহ নানা সন্ত্রাসী ও জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। এপর্যন্ত এই এলাকায় তারা বহু নিরীহ মানুষ, চুক্তির সমর্থক গ্রামবাসীকে অপহরণ, খুন ও মারধর করেছে। তবে ইতোমধ্যে তারা বহু এলাকায় জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।
অবরোধের কারণে গত রোববার পর্যটকবাহী যানবাহন সাজেকে আটকা পড়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণায় ১৫ই অক্টোবর এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
অপরদিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের(ইউপিডিএফ)’র এক বিবৃতিতে সাজেকে ‘গোলাগুলির’ ঘটনাকে সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছে। বিবৃতিতে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেছেন, “মূলত পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবিতে সাজেকবাসীর চলমান শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেরা একতরফা বিভিন্ন দিকে গুলি বর্ষণ করেছে।”
অপর এক বিবৃতিতে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ সাজেকে শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি উষাতন চাকমা বিবৃতিতে বলেছেন, “সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি এলাকা থেকে পিসিজেএসএস সন্তু লারমা গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে না নিয়ে, তাদের অত্যাচার ও সশস্ত্র সন্ত্রাস বন্ধ না করে, উল্টো নিরীহ সাজেকবাসীর উপর বিনা উস্কানিতে হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এই হামলা সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্যই করা হয়েছে।”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ বিগেড’র ভাষ্যমতে, পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার। তবে ইউপিডিএফ সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সেনাবাহিনীর গোলাগুলির খবর সত্য নয় বলে মন্তব্য করেছে। পার্বত্য রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় স্থানীয় জনগণকে জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ এবং পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর গুলিবর্ষণ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের(ইউপিডিএফ)।
এ ঘটনায় সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাজেকে ভ্রমণরত অবস্থায় আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার(২২শে অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে ২০৩ব্রিগেড’র বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। পর্যটকবাহী যান চলাচলের সময় সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এতে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। তবে সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫মিনিটের দিকে অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে বলে প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবরুদ্ধ পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সড়ক অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
আইএসপিআরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা, পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক অবরোধে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ উদ্বেগের বিষয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, স¤প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানায় আইএসপিআর।
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)র মুখপাত্র অংগ্য মারমা এক বিবৃতিতে বলেন, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকাসহ কতিপয় সংবাদ মাধ্যমে বাঘাইছড়ির সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে গত বৃহষ্পতিবার দুপুরে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি চলেছে বলে যে খবর প্রচার করা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট আখ্যায়িত করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)।
গত বৃহস্পতিবার(২২শে অক্টোবর ২০২৬) কোন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার জনগণের সাথে কথা বলে এমন খবরের সত্যতার বিন্দুমাত্র প্রমাণ মেলেনি। মূলত পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবিতে সাজেকবাসীর চলমান শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেরা একতরফা বিভিন্ন দিকে গুলি বর্ষণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইউপিডিএফের অংগ্য মারমা আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের উপর ববর হামলা, লাঠিচার্জ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও নিন্দা জানান। তিনি অবিলম্বে সাজেকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে উক্ত এলাকা থেকে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সরিয়ে নেওয়ার ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)’র প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সাজেক যাওয়ার বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান মো: জসিম বলেন, অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করছেন। যার কারণে খাগড়াছড়ি-রাংগামাটি-সাজেক সড়কে স্থানীয় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, ‘সাজেক বর্তমানে একেবারেই পর্যটকশূন্য। আগের সব বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। সাজেকে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না।’
সাজেক অবরোধ চলছে গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠনের ডাকে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘সাজেকে সড়ক অবরোধ এখনো চলমান। সাজেক ১০নম্বর ও ১৪কিলোমিটার এলাকায় আমাদের পিকেটিং চলছে।’
রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব ঘটনার গত বুহষ্পতিবার দুপুরে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, অবরোধকারীদের হামলায় সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন এবং পুলিশের দুই সদস্য জখম হয়েছেন।
প্রায় দুই ঘণ্টার এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় অবরোধকারীদের হামলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। সাজেক থেকে পর্যটকদের গাড়িবহর ছেড়ে যাচ্ছে এমন সময় সাজেকে অবরোধকারীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ ৬জন আহত হয়েছে।
রাঙামাটির সাজেক সড়কের উজোবাজারে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পর্যটকবাহী যানবাহন পার করে দেওয়ার জন্য সড়কের ব্যারিকেড সরানোর আহŸান জানালে অবরোধকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে অবরোধকারীরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। এতে দুপুর একটা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ব্যাপক গুলিবিনিময় চলে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হলেও সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে দিঘীনালার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এই সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পার্বত্য রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সাজেকে গতকাল যে রকম ঘটনা ঘটেছিল, রাঙামাটি সে রকম পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সাধারন মানুষ চলাচল করছে। আমরা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
রাঙামাটির পার্বত্য জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সাজেকে গতকাল যে রকম ঘটনা ঘটেছিল, রাঙামাটি সে রকম পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সাধারন মানুষ চলাচল করছে। আমরা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
রাংগামাটির ২৯৯নং আসনে সংসদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, অবগত হয়েছি, আমলা চাচ্ছি যে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম তারা ৫দফা দাবী দিয়েছে। আমরা তাদের সাথে বসব। এটি দৃশ্যমান না, ওদের সাথে বসতে চায়, আমরা সরকারের আলোচনা বিশ^াসী। আমরা আশা করছি, অচিরেই তা সমাধান হবে।
গত ১১ই অক্টোবর অবরোধ পালনকালে বিকেলে স্থানীয় সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন দুই সংগঠন ও সাজেকবাসীর উত্থাপিত তিন দফা দাবি বা শর্ত মেনে নিলে ৪৮ঘন্টার জন্য সড়ক অবরোধ স্থগিত করা হয়। এরপর শর্ত পূরণ না হওয়ায় ১৫ই অক্টোবর আবার তারা অবরোধ পালন করে। পরে শারদীয় দুর্গোৎসবের কারণে ১৬থেকে ২১শে অক্টেবর অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।































