দীর্ঘ নীরবতার পর খুলনায় ভোট ফেরানোর লড়াইয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু

দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ভোটাধিকারহীনতার অভিযোগ, দমন-পীড়ন এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কেটেছে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষিতে খুলনায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলেও, এটি কেবল সূচনার মুহূর্ত—বস্তুত শুরু হয়েছে ভোট ফেরানোর রাজনৈতিক লড়াই।
এবারের প্রচারণার সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হচ্ছে তরুণ ভোটারদের সরব উপস্থিতি। যারা ভোটার হয়েও দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেননি, তারা এখন মিছিল, লিফলেট বিতরণ এবং স্লোগানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের এই অংশগ্রহণ নজরুল ইসলাম মঞ্জুর প্রচারণাকে দিয়েছে নতুন গতি ও উদ্দীপনা।
প্রচারণায় খুলনা মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে দলীয় ঐক্য। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম শফিকুল আলম তুহিনের সরব উপস্থিতি মাঠের কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচনে ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারবেন। আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে শহীদ সহযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ শোধ করব। আমাদের সহযোদ্ধাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, খুলনা-২ আসনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করা হবে। তরুণ প্রজন্মের শক্তি ও উদ্দীপনা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।
নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম ২২ জানুয়ারি থেকে ০৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যেই খুলনার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে।
প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে শুরু হয়ে পিকচার প্যালেস মোড় হয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, সৈয়দা নার্গিস আলী, খান রবিউল ইসলাম রবি, কাজী মো. রাশেদ, রেহানা ঈসা, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, কেএম হুমায়ুন কবীরসহ মহানগর, থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে এবার ভোট ফেরানোর লড়াই কেবল একটি নির্বাচন নয়; এটি গণতন্ত্র, অধিকার ও অংশগ্রহণের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।






























