পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানির ফিল্টার- লাখ টাকা অপচয়

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় ৪র্থ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচীর অর্থায়নে এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি বিশুদ্ধিকরণ ফিল্টার স্থাপন করা হচ্ছে। কার্যাদেশ ও প্রাক্কলণ অনুযায়ী প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন না করায় সরকারের ৯৪ লাখ টাকা অপচয় করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় বরিশালের দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকার গ্রীন টিএম (জেভি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।দায়সারাভাবে কাজ শুরু করায় নির্ধারিত সময় অর্থাৎ এ বছরের ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।৮০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০টি বিদ্যালয়ে ফিল্টার স্থাপন করতে পারলেও এরমধ্যে ৪০টিই নষ্ট হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫ নং মধ্য ছোট মাছুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানির ফিল্টার স্থাপনের এক মাসের মধ্যেই বেসিনের সাপ্লাই ও পাইপ লিকেজ হয়ে গেছে। ৬ নং মধ্য ছোট মাছুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় পানির ট্যাংকের গোড়া থেকে পাইপ ভেঙে গেছে।৯৪ নং নলী বিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিল্টারেশন কীট নষ্ট হয়ে গেছে।

৯৬ নং খেঁতাছিড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিল্টারে আদৌ লবনাক্ত কাটেনি।২০০ নং উত্তর বড় শৌলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানির ফিল্টারের মর্টার নষ্ট হয়ে গেছে। মেকানিক জানিয়েছে কয়েল পুড়ে গেছে। ১০৩ নং হোতখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিল্টারেশন কীট নষ্ট হয়ে গেছে এবং পাইপ ফেটে গেছে। ১১১ নং পূর্ব ঘটিচোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিল্টারটি ৩ মাস ধরে ব্যবহার অনুপযোগী রয়েছে।

১০২ নং গুলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবমার্সিবল এ পানির ফিল্টারের পাইপ চুরি হয়ে গেছে। একাধিক বিদ্যালয়ের মর্টার চুরি হয়ে গেছে।প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রত্যেকটি ফিল্টার এভাবে একের পর এক নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত অবস্থা তৈরি হয়েছে। এখনো পরীক্ষা করা হয়নি আর্সেনিক।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোক মোঃ রুহুল আমিন জানান,কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারনে ইতোমধ্যে ৯ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে। যেসব ফিল্টার নষ্ট হয়েছে তা ঠিক করে দেওয়া হবে।২ বছর পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এগুলো দেখভাল করবে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার লিটন জানান, পানির ফিল্টারের জন্য ৮০টি বিদ্যালয়ে ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে।২ বছর পর্যন্ত কোন বিদ্যালয়ের ফিল্টার নষ্ট হলে সরকারিভাবে ঠিক করে দেওয়া হবে।