বন্য প্রাণী পাচারে ‘ফোকাস’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

বিশ্বজুড়ে বন্য প্রাণী পাচারে ২৬টি ‘ফোকাস’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসে এ তালিকা সম্বলিত একটি প্রতিবেদন উত্থাপন করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর।

যেসব দেশে থেকে বন্য প্রাণী পাচার, বন্য প্রাণী পাচারের পথ বা রুট হিসেবে ভূখণ্ড ব্যবহার অথবা যে দেশে পাচার হওয়া বন্য প্রাণী ব্যবহৃত হচ্ছে তাদেরকে নিয়ে ফোকাস দেশের তালিকা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে কঙ্গো, লাওস ও মাদাগাস্কারের বন্য প্রাণী পাচার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খবর রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে ওই প্রতিবেদনটি শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, আগামী চার বছর ২৬টি দেশের বন্য প্রাণী পাচার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

২৬টি দেশে ফোকাস তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, চীন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, গ্যাবন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, লাওস, মাদাগাস্কার, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, উগান্ডা, আরব আমিরাত ও ভিয়েতনাম।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্য প্রাণী পাচার রোধ আইন-২০১৬ অনুযায়ী এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পররাষ্ট্র দফতর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারি মাসে এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। নির্বাহী আদেশে প্রধান চারটি বিষয়ের একটি হলো বন্য প্রাণী পাচার রোধ।

এর আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বাংলাদেশে বাঘ হত্যা ও পাচার নিয়ে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে দুটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকারের কাছে তুলে দেয়। সেখানে বাঘ হত্যা ও পাচারের সঙ্গে প্রভাবশালী চক্র জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।

‘বাংলাদেশ সুন্দরবনে বাঘের বাণিজ্য’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৭৬ শতাংশ কমে গেছে। পেশাদার বন্য প্রাণী শিকারি একটি চক্র বাঘ হত্যা করে তা ভারতে পাচার করছে।