কলারোয়ায়

বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে উঠতি বয়সীরা! ঘটছে দুর্ঘটনা, আতংকে পথচারীরা

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যাচ্ছে কিছু সংখ্যক উঠতি বয়সী কিশোর-যুবকদের। বেশ কিছুদিন ধরে এমন চিত্র দেখা মিলছে পৌরসদরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘উচ্চগতি আর হেলেদুলে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে ওই সকল ব্যক্তিরাও যেমন দুর্ঘটনা পড়ছে তেমনি অন্য পথচারীও বিপদের সম্মুখিন হচ্ছেন। আতংকে থাকতে হচ্ছে পথচলায়। এখনই প্রতিকার জরুরী হয়ে পড়েছে’

বাসস্ট্যান্ডের চায়ের দোকানী বুলু জানান, ‘প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন সময় অল্প বয়সী ছেলেরা বিভিন্ন মোটরসাইকেলে বিরাট গতিতে অতিদ্রুত যাতায়াত করে থাকেন। যাদের অনেকেরই বাড়ি কলারোয়ায়। তাদের নিষেধ করলেও শোনে না। ঈদের সময় বেগ আরো বাড়ে। এবারো এমন চলতে থাকলে আসছে ঈদে কতজনই না হতাহত হয়! এর আগেও এমন গতিতে মোটরসাইকেল চালানোয় দুর্ঘটনায় পড়ে কলারোয়ায় কয়েক যুবকের অকাল মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে।’

তিনি পত্রপত্রিকায় বিষয়টি তুলে ধরে ব্যবস্থা গ্রহনে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি দাবি জানান।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ‘বিভিন্ন বয়সীদের অহেতুক অতিগতিসম্পন্ন মোটরসাইকেল চালানো নিত্যদিনের দৃশ্য। গত কয়েক বছর আগে মাইকিং করে বিষয়টি সজাগ হওয়ার তাগিদ দেয়া হলেও বারণ না শোনায় কলারোয়া থানার তৎকালীন ওসি’র বিশেষ নির্দেশে অহেতুক অতিউচ্চগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে কয়েক যুবককে রাস্তায় আটকিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় কান ধরে উঠবস, চপ-থাপ্পর, রোদে দাড় করিয়ে রাখা, লাঠি দিয়ে হাটুর নিচে মারধোর, অভিভাবকদের তলব করা ইত্যাদি বাস্তবায়ন করা হয়েছিলো। ফলে সেসময় কিছু দিনের জন্য এমন বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু গেলো কয়েক মাস যাবত আবারো বেপরোয়া ও ভয়ানক ভাবে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যাচ্ছে কিছু যুবক ও কিশোরদের।’

ব্যবসায়ী নিয়ামুল হাফিজ বলেন, ‘রাস্তা বা দোকানে মেয়ে দেখলে ওইসকল ছেলেদের মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে চালানোর বেগ আরো বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় দুর্ঘটনার সংবাদও পাওয়া যায়।’

মজার সুরে শিশু শিক্ষার্থী তাসিন মাহমুদ জানান, ‘ওদের জন্ম মনে হয় উড়োজাহাজে! তা না হলে তারা হওয়ার বেগে উড়ে উড়ে মোটরসাইকেল চালাতে পারে?’

এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খায়রুল কবীর বলেন, ‘আসলে এক্ষেত্রে কিশোর-যুবকদের সাথে তাদের অভিভাবকও দায়ী। সন্তান কী করছে, কোথায় যাচ্ছে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সজাগ থাকা অত্যাবশ্যকীয়। তাদের সচেতনতা জরুরী। তাছাড়া যারা এমন মোটরসাইকেল চালাচ্ছে তাদেরও বোঝা উচিত একটি দুর্ঘটনা ঘটলে সারা জীবন নিজেকে নতুবা পরিবারকে ভুগতে হবে।’

তিঁনি আরো বলেন, ‘মোটরসাইকেল দ্রুত চালানোর অপরাধে দ্রæতই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এসকল বিষয়ে অচিরেই অভিভাবকদের মোটিভেশন করা হবে।’