পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান নির্যাতনের প্রতিবাদে কলারোয়ায় বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, বাড়িঘর ভাঙচুর, মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজ শেষে কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, আইম্মায়ে মাসাজিদ ও সর্বস্তরের মুসল্লিদের ব্যানারে আয়োজিত এ মিছিলে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলটি কলারোয়া বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় অংশগ্রহণকারীরা পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও মসজিদ-মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কলারোয়া উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি ও কলারোয়া থানা জামে মসজিদের খতিব মুহা. আসাদুজ্জামান ফারুকীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মো. ওসমান গনী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলারোয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আহম্মদ আলী, কলারোয়া আল মাদানী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. ইমাম হাসান নাসেরী, নতুন বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. রুহুল কুদ্দুস, কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. তৌহিদুর রহমান, কলারোয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. আবুল হোসেন, হাতিয়াভাঙ্গা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. জালাল উদ্দিন প্রমুখ।
বক্তারা পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর সহিংসতা, মসজিদ-মাদ্রাসা ও কবরস্থান ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মানবাধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য অশনিসংকেত। পশ্চিমবঙ্গে শুধু মুসলমানরাই নয়, বিরোধী মতের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও নানা নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। এদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। এদেশের হিন্দু সম্প্রদায় নিরাপদ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও নিরাপদ থাকবে।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ইমাম সমিতির সহকারী সেক্রেটারি ও কলারোয়া উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব মাওলানা মো. খাইরুল ইসলাম।





























