শ্মশানে ফেলে রেখে যাওয়া
কলারোয়ায় অন্ধ ঘোড়ার পাশে মানবতার দৃষ্টান্ত গড়লেন কলেজ ছাত্র সোহান

সাতক্ষীরার কলারোয়া হরিতলা শ্মশানঘাটের নির্জন এক কোণে পড়ে ছিল একটি অসহায় অন্ধ ঘোড়া। বয়সের ভার আর দুই চোখের আলো হারিয়ে প্রাণীটি হয়ে উঠেছিল মালিকের কাছে বোঝা। তাই এক গভীর রাতে ঘোড়াটিকে শ্মশানের পাশে ফেলে রেখে চলে যায় তার প্রকৃত মালিক। ক্ষুধা, তৃষ্ণা আর অবহেলায় মৃত্যুর প্রহর গুনছিল নির্বাক প্রাণীটি।
কিন্তু মানবতা তখনও হারিয়ে যায়নি। ঘটনাটি নজরে আসে কলারোয়া পৌরসদরের ঝিকরা গ্ৰামের কলেজ ছাত্র সোহানের। বন্ধুদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ছুটে যান তিনি। শ্মশানের পাশে কাঁদামাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্ধ ঘোড়াটির করুণ অবস্থা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সোহান। সেদিনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন— প্রাণীটিকে আর একা মরতে দেবেন না। এখন থেকে এই অন্ধ ঘোড়াটি যে কয়দিন বাঁচবে এর দেখাশোনা করবে।
নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ঘোড়াটির খাবার, পানি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এই তরুণ। প্রতিদিন কলেজ শেষে সময় দেন তার সেবায়। কখনো নিজের হাতে ঘাস খাওয়ান, কখনো শরীরে ওষুধ লাগান। ধীরে ধীরে এলাকাবাসীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে সহমর্মিতার বার্তা। অনেকেই এগিয়ে আসেন সাহায্যের হাত নিয়ে।
সোহান বলেন, প্রাণীও আল্লাহর সৃষ্টি। কথা বলতে পারে না বলেই তাদের কষ্ট আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। সবাই যদি একটু মানবিক হই, তাহলে কোনো প্রাণী এভাবে রাস্তায় পড়ে থাকবে না।
তিনি আরো বলেন, কলারোয়া প্রাণিসম্পদ অফিসে ডাক্তার দেখিয়েছি, ডাক্তার সাহেব জানিয়েছেন- আর চোখ ভালো হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজকের সমাজে যেখানে মানুষ মানুষকেই ভুলে যায়, সেখানে একটি অসহায় অন্ধ ঘোড়ার পাশে দাঁড়িয়ে সোহান মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
নির্বাক প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের এই গল্প যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়— মানবতা এখনো বেঁচে আছে, কিছু ভালো মানুষের হৃদয়ে।





























