যশোরের মণিরামপুরে ৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল!

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও পাঁচটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মণিরামপুরের শতভাগ অকৃতকার্য সাতটি প্রতিষ্ঠান হলো- হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়, চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, নেংগুড়াহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদ্রাসা, নেহালপুর দাখিল মাদ্রাসা ও ইত্যা স্লুইসগেট দাখিল মাদ্রাসা।
জানা গেছে- হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবার মাত্র একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সে গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনজন, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও ইত্যা স্লুইসগেট দাখিল মাদ্রাসা থেকে চারজন করে এবং শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও নেহালপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ছয়জন করে পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সাতটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে।
এর মধ্যে নেংগুড়াহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থী ছিল সবচেয়ে বেশি-১৭ জন। তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে এবার নিয়মিত কোনো এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল না। নবম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল, কিন্তু গত বছর সে পরীক্ষা দেয়নি। এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন- এর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণিত পড়াতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর গত আট-নয় মাস ধরে বিদ্যালয়ে কোনো গণিতের শিক্ষক নেই।
চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত বালা বলেন- বছরের বেশিরভাগ সময় বিদ্যালয়ের মাঠ এমনকি শ্রেণিকক্ষেও পানি জমে থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী রয়েছেন। এবার মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুজাফফার হোসেন বলেন- ৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইত্যা স্লুইসগেট, পাড়দিয়া ও নেহালপুর মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত নয়। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।