র‍্যাব-১৫-এর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহরণের শিকার তিন রোহিঙ্গা উদ্ধার, আটক ১

কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৫-এর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহরণের শিকার তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অপহরণচক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং উখিয়া থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে র‍্যাব-১৫, সিপিসি-১, টেকনাফের একটি আভিযানিক দল অপহৃতদের উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।

দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর গত ৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মুচনী ক্যাম্পসংলগ্ন শালবাগান পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপহরণের শিকার তিনজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া তিনজনই উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (ব্লক-বি-৮১) বাসিন্দা। তারা হলেন— মো. আয়াছ (১৮), মো. ইয়াছিন (২৮) ও জোবাইর (২৫)।

র‍্যাব জানায়, গত ৩০ জুলাই তারা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মুচনী ক্যাম্পে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন। অপহরণকারীরা তাদের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় এবং পরিবারের কাছে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে টেকনাফের মুচনী রেজিস্টার-১ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক-ডি এলাকার বটগাছতলা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অপহরণচক্রের সদস্য হাফেজ আহম্মেদ (৫৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি অপহরণচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় ভিকটিমদের অভিযোগের ভিত্তিতে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধার হওয়া তিনজনকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাব-১৫ জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।