সিলেটের গোলাপগঞ্জে বিএনপি নেতার বাড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন, প্রতিবাদ করায় মামলা

সিলেটের গোলাপগঞ্জে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি, ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় ও ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত শনিবার (২৯ আগস্ট) গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগটি দায়ের করেছেন উপজেলার রানাপিং এলাকার ফাজিলপুর গ্রামের আব্দুল আজাদের ছেলে মো. আব্দুল কাইয়ুম।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে শেরপুর গ্রামের জনৈক শাকিল আহমদ চৌধুরীর কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন কাইয়ুম। কিন্তু রানাপিং এলাকার শেরপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ চৌধুরীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে তার ছোটো দুই ভাই শরীফ আহমদ (৪০) ও কাশেম আহমদ (৩৫) এবং আশফাকের ছেলে হামজা আহমদ (২২) তাকে আটক করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর করেন।
তাদের রডের আঘাতে তার পা ভেঙে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন। তারা তার কাছে থাকা দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর আদায় করেন। পরবর্তীতে এলাকায় গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উক্ত ঘটনার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি আশফাক আহমদ থানায় প্রভাব খাটিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদকারী ৫ জন ব্যক্তিকে আসামী দিয়ে একটি মামলা গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় অভিযুক্তরা হলেন আহত আব্দুল কাইয়ুম (৩০) গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী(৫০) গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মওদুদ চৌধুরী সুমন (৪০), সিলেট ল’কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সুলতান মাহমুদ (৩৪) উপজেলা যুবদল নেতা শাকিল আহমদ চৌধুরী (৩৩) সহ আরো অজ্ঞাত ৭ জন ব্যক্তি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় চৌঘরী বাজারে আশফাক আহমেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার কারণে আরো একটি প্রতিবাদ সভা হয়। উক্ত সভায় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেনির ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, আশফাক আহমদ হলেন একজন মামলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ তিনি বিগত ৫ আগস্টের পর থেকে গোলাপগঞ্জের অনেক নিরিহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন এবং অনেকের কাছ থেকে এসব মামলা দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন।
এলাকায় এর কারণে মানুষ অতিষ্ঠ, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সে আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে। নিরীহ মানুষকে তুলে নিয়ে তার বাড়িতে নির্যাতন করতেছে আর আমরা প্রতিবাদ করায় এখন সে আমাদের ওপরও মামলা দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
এসময় উপস্থিত জনতা আশফাক আহমদ এবং তার অনুসারীদের এসব কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান এবং দোষীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।





























