নেত্রকোনার মদনে কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও

নেত্রকোনার মদনে ঠিকাদারের গাফিলতিতে ২ বছরেও শেষ হয়নি হাজী চমক আলী ভূঁইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে উধাও হয়ে গেছে।
এদিকে নতুন ভবণ নির্মাণে পাশের বাড়ির পুরোনো একটি ভাঙ্গা জরাঝির্ণ টিন শেড ঘরে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থী ক্লাশ শিক্ষকরা। যার ফলে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ১০৩ জন, ৬ পদ মধ্যে শিক্ষক আছে ৩ জন।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সরকারি এই স্কুলটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে কেন্দুয়ার মেসার্স নওশী এন্টার প্রাইজ নামীয় প্রতিষ্ঠান কাজটি পায় । যার চুক্তিমূল্য ছিল ৯৯ লাখ ১ হাজার ৪শ টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সীমা ৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং সাল থেকে ২০২৪ ইং তারিখে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেঁধে দেয়া হলেও কেটে গেছে প্রায় দুই বছর। এখনো পর্যন্তও নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করেই ৮৪ লাখ টাকা উত্তোলণ করে নিয়ে গেছে। চুক্তিমূল্য অনুযারী প্রায় ১৫ লাখ ১ হাজার ৪ শত টাকা রয়েছে।
বিদ্যালয়টিতে রোববার সরজমিনে গেলে দেখা যায়, ভবনের দরজা,জানালা,রং করণ,গ্রিল,বৈদুতিক সংযোগ,গেইট,প্লাস্টার ,ফ্লোর ফিনিশিংসহ অধিকাংশ কাজেই এখনও অসমাপ্ত পাওয়া গেছে।
এ সময় পাঠদানরত ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম তাসকিন, রিদমি আক্তার ,চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার জানায়, আমাদের স্কুলে আসতে মন চায় না। আসলেও ক্লাসে বসলে মন ভাল লাগে না। চারপাশ ভাঙ্গা। ক্লাসের ভিতর কুকুর বিড়াল
প্রবেশ করে। অনেক সময় ভয়েও থাকি। আমাদের দাবি সরকার যেন দ্রুত আমাদের স্কুলটির কাজ শেষ করার ব্যবস্থা করে দেন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিদ্যালয়টির (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক কানন আক্তার জানান, গত দুই বছর যাবত আমরা প্রথম শিফটের তিনটি ক্লাস এবং দ্বিতীয় শিফটের তিনটি ক্লাস একত্রে একটি পাশের বাড়ির টিনসেড ভাঙ্গা ঘরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। এতে শিক্ষা কার্যালম ব্যহত হচ্ছে।
ঠিকাদার আব্দুল হাইয়ুল ভূঁইয়া জানান, আমার এ কাজটি একজনকে স্ট্যাম্প মূল্যে হস্তান্তর করে ছিলাম। এখন কাজটি না করে দীর্ঘদিন যাবত ফেলে রেখেছে। আমি তার সাথে কথা বলতেছি। যদি সে না করে আমি দ্রুত কাজটি করে দেব।
উপজেলা প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন জানান, ঠিকাদারকে বার বার ফোন দিচ্ছি। শুধু তাই নয় তাকে দুটি চিঠিও দিয়েছি। আজকে কথা হয়েছে। ঠিকাদার বলছে দু’ একদিনের মধ্যেই কাজ শেষ করবে।
ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী জানান, এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতার মোবাইলে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।




























