মিছিল নিয়ে ধানের শীষের শেষ জনসভায় যাওয়ার পথিমধ্যে সুহেল চৌধুরীর মৃত্যু

মিছিল নিয়ে সিলেট-২ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার ধানের শীষ প্রতিকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথিমধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক দুই বারের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী।
সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার এলাকায় সোমবার (৯ ফেব্রæয়ারি) অনুষ্ঠিত জনসভাস্থলের কাছাকাছি যাওয়া মাত্রই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুঠিয়ে পড়েন সুহেল আহমদ চৌধুরী। সঙ্গে সঙ্গে তার সঙ্গীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা তাকে দক্ষিণ সুরমার নর্থ ইষ্ট মেডিকেলে নিয়ে গেলে বিকেল ৪টার দিকে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন সুহেল আহমদ চৌধুরীর এক স্বজন মোহাম্মদ আলী শিপন। সুহেল আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও উপজেলার সর্বত্র নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ধানের শীষ মানে মানুষের অধিকার, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার শক্তি-ইলিয়াসপতœী লুনা শহিদুর রহমান বিশ^নাথ সিলেট থেকে:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’র প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ইলিয়াসপতœী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, ধানের শীষ মানে মানুষের অধিকার, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার শক্তি।
ধানের শীষে আপনাদের একটি ভোট বদলে দিবে ইতিহাস। ধানের শীষে একটি ভোট দেশকে বদলে দিবে। তাই ১২ ফেব্রæয়ারী ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনারা বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করুণ। তবে সবাইকে ভোটের দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নির্বাচনী বিধি মেনে সর্বত্র শান্তিপুর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, কোন অবস্থাই কারও সঙ্গে বিবাদে জড়াবেন না।
কারণ এই এলাকার কাঙ্খিত উন্নয়ন এবং আপনাদের প্রিয় এম. ইলিয়াস আলীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষের বিজয়ের বিকল্প নেই।
তিনি সোমবার (৯ ফেব্রæয়ারী) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথে পৌর শহরের নতুন বাজার প্রবাসী চত্বর সংলগ্ন মাঠে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন।
তিনি আরোও বলেন, জনতার প্রিয় নেতা এম. ইলিয়াস আলী গুমের পর আমি যখন এই অঞ্চলে তাঁর জায়গায় রাজনীতিতে এসেছি,আমি কখনও চাইনি তাকে (ইলিয়াস) পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে। আমি চেয়েছি ইলিয়াস আলীকে সামনে রেখে আপনাদের সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে। আমি কখনও এমপি হওয়ার জন্য রাজনীতি করিনি। যদি চাইতাম, তাহলে ইলিয়াস আলীর হাত ধরেই অনেক পূর্বেই মহিলা এমপি হতে পারতাম। সেই প্রত্যাশা আমার কখনই ছিলো না।
জনসভায় ইলিয়াসপতœী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, আজ আমি পরিস্থিতির প্রয়োজনে আপনাদের টানে, এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। সুতরাং এখন আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব ১২ ফেব্রæয়ারীর নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে সেই সম্মান, বিশ্বাস ও আস্তার জায়গাটুকু ধরে রাখবেন।
আপনাদের প্রতি আরেকটা অনুরোধ এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বিষয়টি আমার শ্বাশুড়ি এখনও বিশ্বাস করেন না, মানতে পারছেন না। তাঁর ছেলে গুম কেনো। তিনি তাঁর ছেলের কথা আমার কাছে বার বার প্রশ্ন করেন। তাদের শত প্রশ্নের জবাব আমি আমার শ্বাশুড়ি’সহ কাউকে জবাব দিতে পারি না। তাই আপনারা ১২ ফেব্রæয়ারী নির্বাচনের দিন ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমার শ্বাশুড়ির এই প্রশ্নের জবাব দেবেন।
লুনা বলেন, ১২ ফেব্রæয়ারীর নির্বাচনে জনগণের ভোটে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে, দেশনায়ক তারেক প্রধানমন্ত্রী হলে ও সিলেট-২ আসনে আমি বিজয়ী হলে আপনাদের নেতা ইলিয়াস আলীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব। দখলে-দুষণে বিলীন হয়ে যাওয়া বাসিয়া নদী নিয়ে থাকা দুঃখ দূর করব।
স্বাস্থ্যখ্যাতে মানুষ যাতে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পান সে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সর্বোপুরী ধানের শীষের বিজয়ের মাধ্যমেই আপনাদের সকল সমস্যার সমাধান হবে। তবে আজ একটি দুঃসংবাদ আমাদের কাঁদিয়ে তুলেছে। আমাদের সবার প্রিয় ভাই সুহেল আহমদ চৌধুরী সাহেব মারা গেছেন। আমরা তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ যেনো তাকে বেহেস্ত দান করুণ।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া ও উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শামসুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অথিতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, সিলেট জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও ইলিয়াস আলীর সহোদর এম. আছকির আলী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব ও ছোট ছেলে লাবীব শারার।
উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক লোকমান আহমদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া জনসভায় বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক গৌছ খান, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি আব্বাস আলী, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, আব্দুল কুদ্দুছ, সেবুল মিয়া, মুমিন খান মুন্না, তোফাজ্জল আলম তোফায়েল, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার,।
ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে জামাল উদ্দিন, ইসমাইল খান, শিহাব আহমদ, আনিসুজ্জামান খান, আলতাব আলী মেম্বার, মাছুম আহমদ মারুফ, আব্দুস সহিদ, জিল্লুর রহমান, ফয়জুল হক, পৌর কৃষক দলের আহবায়ক নুর আলী, পৌর যুবদলের আহবায়ক শাহ আমির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক নাজিম উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নূরুজ্জামান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সদস্য আহমেদ দুলাল মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক হোসাইন আহমদ প্রবেল, সদস্য সচিব ফাহিম আহমদ, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা, সদস্য সচিব জাকির হোসেন ইমন।
এর পূর্বে সকাল থেকে উপজেলা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন ইউনিয়ন-ওয়ার্ড থেকে ব্যানার -ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে বিশাল বিশাল মিছিল এসে জনসভায় যোগ দেন। মুল মঞ্চের পাশে প্রবাসী নেতাদের জন্য পৃথক একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। প্রায় শতাধিক প্রবাসী আর হাজার হাজার নেতাকর্মী সমর্থকদের ইলিয়াস ভাই-ইলিয়াস ভাই, ধানের শীষ-ধানের শীষ আর লাগারে লাগা-ধান লাগা ¯েøাগানে মুখর হয়ে উঠে পুরো এলাকা।































