আমের মুকুলে স্বপ্ন বুনছেন কলারোয়ার আমচাষীরা, বাতাসে দুলছে ভাগ্য

আমের মুকুলের মৌ-মৌ গন্ধে মাতোয়ারা গোটা সাতক্ষীরার কলারোয়া। গাছজুড়ে আমের মুকুলে এমন ভাবে ছেয়ে গেছে যে গাছের পাতাও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। মুকুলে স্বপ্ন বুনছেন আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা। বাতাসে দুলছে তাদের ভাগ্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশাবাদী তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র ফুটে উঠেছে।
দেখা গেছে- আম গাছগুলো মুকুলের ভারে নুউয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও আগাম হাইব্রিড আম গাছে মুকুল থেকে উঁকি দিচ্ছে আমেরগুটিও। নিয়মিত পরিচর্যা আর দেখভালে ব্যস্ত আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
আম চাষী ও ব্যবসায়ী ওমর ফারুক ও সাব্বির হোসেন জানান- এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আমের জন্য সহায়ক আছে। উপজেলায় বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। এরমধ্যে হিমসাগর, ন্যাড়া, গোবিন্দভোগ, মল্লিকা, আম্রপালি, বোম্বাই, লতা, দেশীয় লতা ইত্যাদি।
নিজেদের ও এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এবারো এই অঞ্চলের বিভিন্ন জাতের আম বিদেশে রপ্তানি করা যাবে বলে মনে করেছেন তারা।
তারা আরো জানান- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শে গাছে মুকুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই তারা পুরো গাছ সাইপারমেথ্রিন, ইমিডাক্লোপিড ও একদিন পর সালফার বা ম্যানকোজেব ও কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করে গাছ ধুয়ে দিয়েছেন। এতে গাছে থেকে শোষক জাতীয় পোকা নিধন হয়েছে। মুকুল আসার ১৫-২০ দিন পর সাইপারমেথ্রিন অথবা ল্যামড সাইহ্যালোথ্রিন, ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক ও একদিন পর সালফার বা ম্যানকোজেব কীটনাশক দিয়ে গাছ স্প্রে করা হয়েছে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম এনামুল ইসলাম জানান- গত কয়েক বছর ধরে কলারোয়া উপজেলার আম দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারে যাচ্ছে। এ বছর উপজেলায় আমচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬৫ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে প্রতি হেক্টর জমিতে ৩০ থেকে ৩৫ মন আমের উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

























