রামুতে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চেয়ারম্যান নোমানের নাম জড়িয়ে প্রচারণা ভিত্তিহীন

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবকের সঙ্গে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ইসমাইল নোমানের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, যাচাই-বাছাই ছাড়াই চেয়ারম্যানের নাম জড়িয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে, যা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়েছে, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ ঘটনার সঙ্গে চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ইসমাইল নোমানের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই।
প্রতিবাদলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইবিহীন তথ্যের ভিত্তিতে একজন জনপ্রতিনিধির নাম সংবাদে অন্তর্ভুক্ত করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। এতে একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তি-সম্মান ও দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রামু থানা-পুলিশ কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্টে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, থামার সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করা একটি মিনি পিকআপকে ধাওয়া করে রামু-মরিচ্যা সড়কের হাজারীকুল এলাকা থেকে আটক করা হয়।
পরে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির চালকের আসনের নিচ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় অস্ত্র বহনে ব্যবহৃত মিনি পিকআপ ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মৌলভীকাটা এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল (২৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ইসমাইল নোমানের ব্যক্তিগত গাড়িচালক। তবে এ বিষয়ে রামু থানা-পুলিশের প্রেস ব্রিফিং কিংবা মামলার এজাহারে চেয়ারম্যানের নাম বা তাঁর কোনো সম্পৃক্ততার উল্লেখ নেই।
চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে রামু থানা-পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, সম্ভাব্য ব্যবহার এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



























