রাঙামাটির পাহাড়ি আনারসে জমজমাট সমতাঘাট, দাম পতনে হতাশ চাষী

রাঙামাটির বনরূপার সমতা ঘাটের ভাসমান হাটে সারা বছর ধরে বিভিন্ন ফল বিক্রি হয়।সারি সারি আনারস বোঝাই নৌকা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে পুরো বাজারটি মুখরিত থাকে। কৃষকরা নৌকায় করে সরাসরি এই হাটে তাদের ফল নিয়ে আসেন। বর্তমানে এই হাটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আনারস। ব্যবসায়ীরা ঘুরে ঘুরে আনারস কিনছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাঙ্গামাটিতে চলতি বছর ২ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।

তবে রমজানের প্রথম হাটে যে আনারস আকারভেদে ২০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন তা ১০ থেকে ২৮ টাকায় নেমে এসেছে। এতে হতাশ কৃষকরা।

বান্দুকভাঙ্গার কৃষক সুবীর চাকমা বলেন, “গত বাজারে আমি ১০০টি আনারস ৪,৫০০ টাকায় বিক্রি করেছিলাম। এক সপ্তাহে সেই দাম ২,৮০০ টাকা কমেছে। অর্থাৎ ১০০টি আনারসের দাম ১,৭০০ টাকা কমেছে। শ্রমিকদের মজুরি এবং নৌকা ভাড়া কমেনি। এই দামে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ বাড়ছে না।” কিন্তু সার, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বাড়তে থাকায় লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ইমরান বলেন, বর্তমানে আনারসের চাহিদা কম। রাঙামাটির পাইকারি বাজারে যে দামে আনারস বিক্রি হচ্ছে, খুচরা বাজারেও তার প্রায় একই দাম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাঙ্গামাটির চাষিরা পরিকল্পনা করে আনারস চাষ করেন। ফলে প্রায় সারা বছরই আনারস পাওয়া যায়। রমজানকে সামনে রেখে অনেক কৃষক বেশি আনারস উৎপাদন করেছেন। তবে শীত মৌসুমে চাহিদা কম থাকায় দাম কমেছে। তিনি আরও বলেন, পাইকারি বাজার থেকে কম দামে কিনে খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।