যশোরের রাজগঞ্জ-পুলেরহাট-ত্রিমোহিনী সড়কে বেপরোয়া যানবাহন: ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক রাজগঞ্জ-পুলেরহাট-ত্রিমোহিনী সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এ সড়ক দিয়ে ট্রাক, বাস, ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও ট্রাকসহ ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে চলাচলকারী অনেক ট্রাক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান এবং ছোট যানবাহনের প্রতি কোনো গুরুত্ব দেন না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজগঞ্জ-পুলেরহাট-ত্রিমোহিনী সড়কের দুই পাশে রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী রাস্তা পারাপার ও সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করে। কিন্তু যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও অসচেতনতার কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করে।

গালদা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “এই সড়কে ট্রাকগুলো এমন গতিতে চলে যে রাস্তার পাশে দাঁড়ালেও ভয় লাগে। ছোট যানবাহনকে অনেক সময় সাইড না দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সব সময় থাকে।”

পলাশী মোড়ের পথচারী নাসিমা খাতুন বলেন, “আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ির গতি এত বেশি থাকে যে বাচ্চারা ভয় পায়। কয়েকবার অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে অনেক শিক্ষার্থী।”

ভান্ডারি মোড়ের ইজিবাইক চালক রহমতউল্লাহ জানান, “ভারী যানবাহনের চালকরা অনেক সময় ছোট গাড়িগুলোকে গুরুত্বই দেন না। হর্ন বাজিয়ে দ্রুতগতিতে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সবসময় চিন্তায় থাকি।”

রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ কামাল তুষার বলেন, “সড়কের দুই পাশে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট স্পিড লিমিট, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও স্পিড ব্রেকার স্থাপন জরুরি। অন্যথায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

মাদ্রাসা শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সড়কে নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জেব্রা ক্রসিং এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।