নতুন পানিতে দেশি মাছ ধরার উৎসব, যশোরের রাজগঞ্জের খাল-বিলে মাছ শিকারে মানুষের ঢল

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত টানা অতিভারী বৃষ্টিতে খাল, বিল, পুকুর, মৎস্যঘের ও বিভিন্ন জলাশয় নতুন পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আর সেই নতুন পানিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরার উৎসব। এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল ও প্লাবিত মাঠে মাছ ধরতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
শনিবার (১১ জুলাই-২০২৬) সরেজমিনে দেখা গেছে- রাজগঞ্জের খালিয়া বালির খাল, মানিকগঞ্জের খাল, মোবারকপুর খালসহ প্লাবিত বিলগুলোতে সকাল থেকে মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা। কেউ জাল, কেউ ঘুনি, আবার কেউ অন্যান্য দেশীয় মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ, মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধ। সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে খাল-বিলগুলো যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য- বৃষ্টির নতুন পানিতে বিভিন্ন জলাশয় থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ ছড়িয়ে পড়ায় মাছ ধরার এ সুযোগ তৈরি হয়েছে। টেংরা, পুঁটি, কৈ, শিং, মাগুরসহ নানা ধরনের দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। মাছ ধরার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দও উপভোগ করছেন অনেকে।
রাজগঞ্জের খালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন- প্রতিবছর এমন নতুন পানি এলে আমরা মাছ ধরতে নামি। এতে যেমন পরিবারের জন্য টাটকা দেশি মাছ পাওয়া যায়, তেমনি সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগিরও সুযোগ হয়। তবে দেশীয় মাছের প্রজনন টিকিয়ে রাখতে ছোট মাছ ও পোনা নির্বিচারে না ধরার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
মানিকগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন- বৃষ্টির পর খাল-বিলে মানুষকে একসঙ্গে মাছ ধরতে দেখা সত্যিই আনন্দের। শিশুদেরও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হচ্ছে। তবে অবৈধ ও ক্ষতিকর জাল ব্যবহার না করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে মাছ ধরলে দেশীয় মাছের সংখ্যা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে- একসময় বর্ষাকালে নতুন পানিতে মাছ ধরা ছিল গ্রামীণ জীবনের একটি ঐতিহ্য। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই চিত্র কিছুটা বদলে গেলেও এবার টানা বৃষ্টিতে আবারও সেই চিরচেনা দৃশ্য ফিরে এসেছে। নতুন পানির সঙ্গে খাল-বিলে মানুষের প্রাণচাঞ্চল্যও যেন নতুন করে জেগে উঠেছে।






























