ঢাকায় অভিযান চালিয়ে খুলনার পাঁচ চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, উদ্ধার বিদেশি পিস্তল-রিভলভার

খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে খুলনার পাঁচজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।
তিনি জানান, সম্প্রতি খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক তৎপরতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এ প্রেক্ষাপটে নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেএমপির উদ্যোগে গত ১ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- শেখপাড়া মেইন রোড এলাকার মো. রুহুল আমিনের ছেলে মো. তুষার শিকদার (৩৮), গোবরচাকা এলাকার এস এম আইয়ুব আলীর ছেলে মো. আবরার ফয়সাল বাদিন (২৪), শেখপাড়া লোহাপট্টি এলাকার নুর ইসলামের ছেলে মো. আল আমিন (২৯), সোনাডাঙ্গা নবীনগর খালাসি মাদ্রাসা এলাকার গাউসুল আজমের ছেলে মো. আসিফ (২৫) এবং টুটপাড়া জোড়াকল বাজার এলাকার মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির (১৮)।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুলনায় সক্রিয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তাদের মধ্যে কয়েকজন চিহ্নিত ‘বি কোম্পানি’ নামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় আত্মগোপনে থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিবি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে খুলনায় সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী, অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র এবং অপরাধী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
ডিবি ডিসি মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “খুলনা মহানগরীতে কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি কিংবা চিহ্নিত অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও তথ্যের ভিত্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান সফল হচ্ছে। নগরবাসীকে যেকোনো অপরাধমূলক তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই অভিযান খুলনায় সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারক হবে।






























