খুলনায় গরম কড়াই দিয়ে গৃহকর্মীকে নির্যাতন: মামলা, পুলিশ দম্পতি গ্রেফতার

খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে এক গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় কর্মরত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্রকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর মা বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তিনি নরসিংদী থেকে খুলনায় এসে থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ দাখিল করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, মামলার পরপরই অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর আগে বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ হৃদয়বিদারক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাসার জানালা দিয়ে তারা দেখতে পান, গরম কড়াই দিয়ে গৃহকর্মীর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হচ্ছে। যন্ত্রণায় ছটফট করলে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাত থেকে তরকারি পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহকর্ত্রী এ নির্যাতন চালান। তারা আরও জানান, অভিযুক্ত দম্পতি প্রায়ই ওই গৃহকর্মীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। ভুক্তভোগীর শরীরে পুরোনো আঘাতের একাধিক চিহ্নও দেখা গেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের ইঙ্গিত দেয়।

ঘটনার সময় স্থানীয়রা পুলিশকে ফোন করে কিশোরী গৃহকর্মীকে উদ্ধারের অনুরোধ জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধ ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এদিকে, সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গৃহকর্মীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।