নওগাঁর মান্দায় রাস্তা প্রশস্তকরণ ও ফসলি জমি রক্ষায় বৈধ প্রক্রিয়ায় গাছ কর্তন

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় রাস্তা প্রশস্তকরণ, নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি রক্ষার স্বার্থে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে গাছ কর্তনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে এবং সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামাণিকপাড়া পর্যন্ত সরকারি সড়কের পাশে ২০০৫ সালে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ইউক্যালিপটাস ও আমগাছ রোপণ করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলোর কারণে সড়ক সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল এবং কিছু স্থানে গাছের শিকড় ও ছায়ার কারণে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই গাছ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গাছ বিক্রির লক্ষ্যে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দ্বারিয়াপুর (এফডব্লিউএডি) নিলামের আয়োজন করে। গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত নিলামে বিভিন্ন এলাকার ২১ জন গাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো ক্রয় করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ।
নিলাম কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম, এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান খান, স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, গ্রামপুলিশ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পরদিন থেকে ঠিকাদার শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে গাছ কাটার কাজ শুরু করেন। স্থানীয়দের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়ক প্রশস্ত হবে, যান চলাচল সহজ হবে এবং কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতিও কমে আসবে।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম বলেন, “কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নয়, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও অবহিত করা হয়েছে।”
প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল জানান, জনস্বার্থ, সড়কের নিরাপত্তা এবং কৃষকদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন করে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক উন্নয়ন ও কৃষিজমি সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পুনরায় বৃক্ষরোপণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, এ উদ্যোগের ফলে সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে এবং কৃষিজমির উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।






















