কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কমছে আবাদি জমি, বাড়ছে বসতভিটা

কৃষিনির্ভর জনপদ হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা। একসময় উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধান, পাট, ভুট্টা, গম, আলু, সরিষা ও বিভিন্ন সবজির আবাদ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু গত এক যুগে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। কৃষিজমি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ, ইটভাটা, পুকুর খনন, সড়ক নির্মাণ এবং নদীভাঙনের কারণে দিন দিন কমছে আবাদি জমি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কৃষি শুমারি ২০১৯ অনুযায়ী, রাজারহাট উপজেলায় মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৩০ হাজার ২৮৭ একর এবং নিট সেচকৃত জমির পরিমাণ ২৩ হাজার ৬৫৭ একর। একই জমিতে একাধিকবার চাষ হওয়ায় মোট ফসলি জমির ব্যবহার ৬৪ হাজার ৫১২ একরে পৌঁছেছে, যা নিবিড় কৃষিকাজের প্রমাণ।
তবে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (SRDI) সাম্প্রতিক ভূমি ব্যবহার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে রাজারহাটে উচ্চ ও মাঝারি উঁচু কৃষিজমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিপরীতে বসতভিটা, পুকুর, নদী ও অন্যান্য অ-কৃষি ব্যবহারের আওতায় থাকা জমির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গবেষণাটি বলছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বসতি সম্প্রসারণ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং অন্যান্য অ-কৃষি ব্যবহারই এর প্রধান কারণ।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আগে যে জমিতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন হতো, এখন সেই জমির অনেক অংশে বাড়িঘর গড়ে উঠেছে। অনেক কৃষক জীবিকার প্রয়োজনে কিংবা উচ্চমূল্যের প্রলোভনে কৃষিজমি বিক্রি করছেন। আবার তিস্তা ও ধরলার ভাঙনে প্রতিবছর অনেক উর্বর জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও নিবিড় চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে কৃষিজমি যদি দ্রুত অ-কৃষি খাতে চলে যেতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিজমি রক্ষায় কৃষিজমি সুরক্ষা আইন কার্যকর বাস্তবায়ন, অপরিকল্পিত বসতবাড়ি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। উন্নয়ন অবশ্যই দরকার, তবে তা যেন উর্বর কৃষিজমি ধ্বংসের বিনিময়ে না হয়—এটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।




















