সন্ধ্যা নামলেই প্রশান্তির খোঁজে মুখর তিস্তার পাড়

ব্যস্ত জীবনের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে মানসিক প্রশান্তির খোঁজে প্রতিদিন বিকেলে অনেক মানুষ ছুটে আসছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তা নদীর পাড়ে। নদীর শীতল বাতাস, ঢেউয়ের ছন্দ, সবুজ প্রকৃতি ও সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্য যেন মুহূর্তেই দূর করে দেয় ক্লান্তি আর উদ্বেগ।
বিশেষ করে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীর বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর হয়ে ওঠে। পরিবার-পরিজন, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও বয়স্ক মানুষকে এখানে হাঁটতে, আড্ডা দিতে কিংবা নীরবে নদীর দিকে তাকিয়ে সময় কাটাতে দেখা যায়। অনেকেই বলছেন, প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা নদীর পাড়ে কাটালে মন অনেকটাই সতেজ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হাকিম সবুজ বলেন,আমার বাড়ি তিস্তার পারে।কয়েক বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে, তবুও সারাদিন কাজের ব্যস্ততার পর তিস্তার পাড়ে এসে বসি। নদীর বাতাস আর সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখলে মনে হয় সব দুশ্চিন্তা কিছুক্ষণের জন্য হলেও দূরে চলে গেছে।”
কলেজ শিক্ষার্থী সাথী সুলতানা বলেন, পরীক্ষা বা পড়াশোনার চাপ বেশি থাকলে মনে উদ্বেগ তৈরি হয়, তাই নদীর পারে কিছুক্ষণ থাকলে মন ভালো হয়ে যায়,ফলে নতুন করে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারি।”
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে। নদীর জলের শব্দ, খোলা আকাশ, সবুজ পরিবেশ এবং নির্মল বাতাস মানুষের স্নায়ুকে শান্ত করে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করতে ভূমিকা রাখে। তবে দীর্ঘদিন উদ্বেগ বা বিষণ্নতার লক্ষণ থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পরিবেশবীদ ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন,তিস্তা নদী শুধু উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীবিকার উৎস নয়, এটি মানুষের মানসিক সুস্থতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়। তাই নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখা এবং এর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাশেম আলী জানান, রাজারহাটে তিস্তা নদীর পাড়ে বসার স্থান, হাঁটার পথ, সৌরবাতি, ও বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে যেমন পর্যটক বাড়বে, তেমনি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন






















