মোবাইলে বন্দি শিশু-কিশোরের শৈশব, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অভিভাবক

একসময় বিকেল হলেই গ্রামের মাঠে শুরু হতো শিশু-কিশোরদের ছুটাছুটি। কোথাও গোল্লাছুট কোথাও হাডুডু, কানামাছি সহ বিভিন্ন রকমের খেলাধুলা। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত সেই খেলাধুলা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। মাঠের জায়গা ক্রমশ কমতে থাকায় মোবাইলে বন্দি শিশু-কিশোর।
রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা, চাকিরপশার, ছিনাই সহ বিভিন্ন এলাকার প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের মাঠ, বাড়ির উঠান কিংবা ফসল কাটার পর খোলা জমিতে দল বেঁধে খেলত শিশু-কিশোররা। এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই বিরল।
রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মাঠ রক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য আশপাশের কয়েকটি গ্রামের তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলার জায়গা এই মাঠটি।অথচ ভবন নির্মাণ করে খেলাধুলা বন্ধ করার পায়তারা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাজারহাটে বর্তমানে ফুটবলসহ আধুনিক খেলাধুলার আয়োজনও হচ্ছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি; বরং বদলে গেছে খেলার ধরন।
জেলা ক্রীড়া অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্থার জন্য তিন কিস্তিতে বরাদ্দরে পরিমাণ বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও মাঠ সংস্কার সহ নানাবিধ উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বোতলার পাড় গ্রামের জহুরুল ইসলাম নামের প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, শিশুদের অবসর মানেই ছিল মাঠে যাওয়া। এখন অনেক শিশুর অবসর কাটে মোবাইল ফোনে। অনলাইন গেম, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পড়াশোনার চাপ, খেলার মাঠের সংকট এবং অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ।
নাফাডাঙ্গা গ্রামের মজিদ মিয়া বলেন,আগে বিকেল হলেই ছেলেরা দলবেঁধে মাঠে এসে কেউ ফুটবল, কেউ,ক্রিকেট, গোল্লাছুট সহ হরেক রকমের খেলাধুলা করত।সন্ধ্যা হলেই বাড়ি ফিরে পড়াশোনায় বসত।এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়েনা।
কানুরাম গ্রামের কিশোর মারুফ ইসলাম বলেন,খেলাধুলার মধ্যে মাঝে মাঝে ফুটবল খেলতে যাই, আর গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা,হাডুডু এসব খেলার নাম শুনেছি তবে কোনোদিন খেলা বা দেখা হয়নি।
এই বিষয়ে রাজারহাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিম তাসনিম এর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

















