ঝালকাঠির কাঠালিয়ার একটি স্কুলে সযত্নে রেখেছে বঙ্গবন্ধুর ব্যানার

ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার সোনাউটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা, খেয়ালখুশিমতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, জমিদাতা পরিবারের সদস্য হওয়ায় প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। এছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও বিদ্যালয়ে বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রচারণামূলক চিহ্ন ও আলামত সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, বিদ্যালয়ে মোট ৬ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সরেজমিন ৩ জন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন। সোমবার দুপুর ১:৩০ মিনিটের দিকে স্কুলে সাংবাদিকরা প্রবেশ করলেই প্রথমে তথ্য দিতে অনিহা প্রকাশ করে বিদ্যালয়টি প্রধান শিক্ষিকা মুকুল বেগম।

অভিযোগ রয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রধান শিক্ষক কখনো কোনো শিক্ষার্থীকে, আবার কখনো পুরো বিদ্যালয়কেই মৌখিকভাবে ছুটি দিয়ে দেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত খাবার ও উপকরণ বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী যথাযথভাবে বিতরণ করা হচ্ছে না। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে তার স্বামী ও জমিদাতা পরিবারের সদস্য মনিরুজ্জামানকে কথা বলার জন্য সামনে আনেন। এ সময় মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, প্রধান শিক্ষক চাইলে যখন-তখন বিদ্যালয়ে ছুটি দিতে পারেন, এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “এটা বিএনপির স্কুল।”

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দেয়াল, আলমারি ও বুকশেল্ফে বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রচারণামূলক চিহ্ন ও আলামত এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সাল বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কোনো বিদ্যালয়ে পূর্ববর্তী সরকারের প্রচারণামূলক চিহ্ন বা আলামত সংরক্ষিত থাকার সুযোগ নেই। এগুলো অপসারণের নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। মৌখিক ছুটির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশেষ মানবিক কারণে দু-একজন শিক্ষার্থীকে মৌখিক ছুটি দেওয়া যেতে পারে, তবে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী বা পুরো বিদ্যালয়কে এভাবে ছুটি দেওয়ার কোনো বিধান নেই।

শিক্ষকদের অনুপস্থিতির বিষয়েও তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।