জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির বহিষ্কৃত সাংবাদিক সম্পদের ক্ষমতার দাপট: বাসে শিক্ষার্থীদের মারধরের হুমকি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য মিরপুর রুটের ‘উত্তরণ-২’ বাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে তীব্র অশোভন আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির বহিষ্কৃত সাংবাদিক আবু বকর সম্পদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রকাশের হুমকি দিয়ে বাসের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।
উত্তরণ-২ বাসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বাসের সামনের দুই সারি এবং পেছনের দুই সারি ছেলেদের জন্য বরাদ্দ এবং মাঝের আসনগুলো ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। ঘটনার দিন সম্পদ তার এক বান্ধবীকে নিয়ে ছেলেদের জন্য নির্দিষ্ট আসনে গিয়ে বসেন।
পরবর্তীতে মেয়েদের সংরক্ষিত আসন ফাঁকা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করেন যেন তার বান্ধবী মেয়েদের আসনে গিয়ে বসেন—যাতে করে ছেলেদের আসনে একজন ছাত্র বসতে পারে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক ও সুশৃঙ্খল অনুরোধ শোনামাত্রই উত্তেজিত হয়ে পড়েন সম্পদ। নিজেকে রিপোর্টার্স ইউনিটির কথিত সভাপতি দাবি করে তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন। বাসের ভেতরেই শুরু করেন বিষোদ্গার ও চিৎকার-চেঁচামেচি। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের দেখে নেওয়ার এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করে ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নিজ অপকর্ম ঢাকতে এবং বিষয়টি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে তিনি পকেট থেকে মোবাইল বের করে শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ করা শুরু করেন। বাসের বহুল প্রচলিত আসন বণ্টন ব্যবস্থার ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—”বাস কি মাদ্রাসা নাকি যে ছেলে-মেয়ে আলাদা বসতে হবে?” বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট সিট নীতিকে খাটো করে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করতে থাকেন।
পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয় যখন এক পর্যায়ে সম্পদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার ও সরাসরি মারধরের হুমকি প্রদান করেন। বাসে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বাসের শৃঙ্খলা মানা তার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তা না করে, রিপোর্টার্স ইউনিটির ভুয়া/কথিত সাংবাদিকের দাপট দেখিয়ে তিনি যেভাবে তুচ্ছ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের হুমকি দিয়েছেন এবং সাংবাদিকতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন—তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।
শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে বাস চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়া, ভুয়া পরিচয় ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হুমকি প্রদানকারী সম্পদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পরিবহন পুলের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।






























