খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুভ জন্মাষ্টমী ও মঙ্গল শোভাযাত্রা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মঙ্গল শোভাযাত্রা করেছে সনাতন ধর্মলম্বী সম্প্রদায়রা। জগতের প্রতিপালক পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম আবির্ভাব তিথি শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জেলার ৯টি উপজেলাতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব ও মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৪ঠা সেপ্টেম্বর) ২৬ইং তারিখ সকাল ১০টার সময় জেলা শহরের কেন্দ্রীয় ল²ীনারায়ণ মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা।

জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সভাপতি ধনা চন্দ্র সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) হাসান মারুফ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ক্ষেত্রমোহন রোয়াজা, এমএন আবসার, কুহেলি দেওয়ান ও তাছলিমা সিরাজ সিমা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অশোক মজুমদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এদিকে শুক্রবার(৪ঠা সেপ্টেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ২নং প্রকল্প গ্রাম ও বৃহত্তর সনাতনী ত্রিপুরা সমাজের আয়োজনে সার্বজনীন শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

পরে মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আলোচনা সভা। শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জগমল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ধনেশ্বর ত্রিপুরা, ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজন চাকমা, রাধা বঙ্কুবিহারী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অমৃত লাল ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি দারুণ বিকাশ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ধনেশ্বর ত্রিপুরা। তিনি বলেন, “আজকের এই আলোচনা সভার তাৎপর্য শুধু আজকের দিনের জন্য নয়; এর শিক্ষা আমাদের সারাজীবন মনে রাখতে হবে, হৃদয়ে ধারণ করতে হবে এবং নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।

শ্রীকৃষ্ণ বহু বছর আগে আবির্ভূত হয়েছিলেন আমাদের জন্য, যাতে আমরা সুখ, শান্তি ও আনন্দের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারি। তাঁর শিক্ষা আমাদের অন্যায় ও অশুভের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।”

তিনি আরও বলেন, সমাজে যখন অশুভ ও দুষ্ট শক্তির প্রভাব বেড়ে যায়, তখন ভালোকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়। জীবনের সব খারাপ ও অকল্যাণকর বিষয় পরিত্যাগ করে ভালোকে ধারণ করতে হবে।

জন্মাষ্টমীর এই দিনে অন্যায় পরিহার, সত্য ও ন্যায়কে ধারণ, মানবতার পাশে দাঁড়ানো এবং শ্রীকৃষ্ণের আদর্শে সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করার আহŸান জানান তিনি। তাঁর মতে, ব্যক্তি জীবনে এসব আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারলেই সমাজ ও দেশ আরও সুন্দর, শান্তিময় ও মানবিক হয়ে উঠবে।

বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আলোচনা সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।