প্রবাসীর স্ত্রীকে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ

যশোরের শার্শায় গভীর রাতে বসতঘরে প্রবেশ করে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে অশ্লীল আচরণ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকেও ওই নারী ও তার স্বজনদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ওই নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আহতদের কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে শার্শা উপজেলার মহিষাকুড়া (উত্তরপাড়া) গ্রামে। এ ঘটনায় মোছা. রেখা খাতুন (২৩) শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে সজীব হোসেন (২৪), ইসমাইল হোসেন (৪৫), আক্তারুল (৪০) ও মোসারাফ (৪৩)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে রেখা খাতুন নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় সজীব হোসেন ভেন্টিলেটর দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে তার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তার চিৎকার শুনে শ্বশুর এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর ওই রাতেই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলাকালে অভিযুক্তরা রেখা খাতুনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় রেখা খাতুনের চাচা রিপন হোসেন (৩৪) ও চাচাতো ভাই লিটন হোসেন (৪০) বিষয়টি দেখতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে রিপন হোসেন শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান এবং লিটন হোসেনের নাকে আঘাত লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে আহম্মদ আলীর বাড়িতে প্রায় শতাধিক গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে ঘটনাটি নিয়ে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুল হাই। তিনি বলেন, আমি ওই বিচারে ছিলাম না। মহিষাকুড়া গ্রামের নেতৃত্বও আমি দিই না। নেতৃত্ব দেন সুলতান।

এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এসআই রমজানকে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।