‘আমার নয়, আব্রাম আসলে আরিয়ানের অবৈধ সন্তান!’ জনশ্রুতির জেরে ক্ষুব্ধ শাহরুখ

বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের সঙ্গে গৌরী খানের বিয়ে হয় ১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর। ১৯৯৭ সালে তাঁদের প্রথম সন্তান আরিয়ানের জন্ম হয়। ২০০০ সালে জন্ম নেয় তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান সুহানা। প্রথমে পুত্র ও তার পর এক কন্যা সন্তানের জনক-জননী হওয়ার বেশ কয়েক বছর পরে ২০১৩ সালে শাহরুখ-গৌরীর তৃতীয় সন্তান আব্রামের জন্ম হয়। বর্তমানে আব্রামের বয়স ৪ বছর, আর আরিয়ান ১৯ বছরের যুবক। প্রথম ও তৃতীয় সন্তানের বয়সের এই পার্থক্যের কারণে লোকে যে নানা রকম ‘অকথা’ ‘কুকথা’ আলোচনা করে থাকে, তা সম্প্রতি উদ্ঘাটিত হয়েছে শাহরুখের নিজেরই বক্তব্য।

২০১৭-র এপ্রিল মাসের ২৪ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাঙ্কুভার-এ আয়োজিত হয়েছিল টেড ২০১৭ কনফারেন্স। ২৮ এপ্রিল সেই কনফারেন্সে বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন শাহরুখ খান। তাঁর বক্তৃতার বিষয় ছিল মানবিকতা। শাহরুখের সেই বক্তৃতার ভিডিও দিন দু’য়েক আগে শেয়ার করা হয়েছে ইউটিউব-এ। সেই ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, মানিবকতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শাহরুখ বলছেন, ‘ইন্টারনেট আসার পরেই গোটা দুনিয়াটা বদলে গিয়েছেন। এখন ভারচুয়াল হয়ে উঠেছে রিয়ালিটি এবং রিয়ালিটি হয়ে গিয়েছে ভারচুয়াল।’

এই পরিবর্তনের ফলে কী ভাবে প্রভাবিত হয়েছে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, তা বলতে গিয়ে নিজের পরিবারের উদাহরণ তুলে আনেন শাহরুখ। বলেন, ‘২০১৩ সালে আমি আর আমার স্ত্রী গৌরী আমাদের তৃতীয় সন্তানের পরিকল্পনা করি। তৃতীয় সন্তান আব্রাম যখন জন্মগ্রহণ করে, তখন আমার প্রথম সন্তান আরিয়ানের বয়স ১৫। সেই সময়ে ইন্টারনেটে এমন আলোচনা শুনেছিলাম যে, আব্রাম আসলে আরিয়ানের অবৈধ সন্তান। এমনকী তখন একটা ফেক ভিডিও-ও ইন্টারনেটে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল, যে ভিডিও-তে নাকি রোমানিয়ার রাস্তায় গাড়ি চালাতে দেখা গিয়েছিল আরিয়ানকে। শুধু তা-ই নয়, ভিডিও-তে নাকি এমনটাও দেখা গিয়েছিল যে, গাড়ি চালাতেই চালাতেই পাশের সিটে একটি মেয়ের সঙ্গে শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে আরিয়ান। এই সমস্ত ঘটনা আমাদের পরিবারে বিপর্যয় নিয়ে এসেছিল।’

এই সমস্ত কথা বলতে বলতে থমথমে শোনায় শাহরুখের গলা। একটু পরেই অবশ্য পরিবেশ একটু হালকা করার জন্য রসিকতা করে শাহরুখ বলে ওঠেন, ‘‘আরিয়ানের বয়স এখন ১৯। ওকে এখনও যদি আপনি ‘হ্যালো’ বলেন, তা হলে ও আতঙ্কের সুরে আপনাকে বলবে, ‘আমার কাছে তো ইউরোপিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স-ই নেই।’’

রসিকতা করে কথাগুলো বললেও একটা সময়ে ইন্টারনেটে প্রচলিত এ হেন গুজব যে গোটা খান-পরিবারকেই যথেষ্ট মানসিক চাপে রেখেছিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শাহরুখের কথায়।