কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে নিহত ১৮

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত বেড়ে ১৮ জন। শনিবার রাতে প্রথমে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। রাতে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর রাতে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শনিবার রাতে হঠাৎ করে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে একদল দর্শনার্থী জোর করে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে ঢুকে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে সে সময় পদপৃষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। মণ্ডপের ভেতরে ভিড়ের চাপ বেশি থাকায় হুড়োহুড়িতে মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে। এতে সেখানে থাকা দর্শনার্থীরা মণ্ডপের একাংশের নিচে চাপা পড়েন।
পরে মণ্ডপের সুরক্ষায় থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিশ দর্শনার্থীদের উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান।
এনডিটিভি জানিয়েছে, চোরাবাগান সর্বজনীন পূজা মণ্ডপে ১৭ জন নিহতের পাশাপাশি আহত অন্তত ৩৫ জনকে নিকটবর্তী এমসিএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মেডিক্যাল কলেজের ‘একটি সূত্রের’ বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকা ১৭ জনের মৃত্যুর কথা লিখেছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একটি শিশু ও ১৩ জন নারী রয়েছে।
এক বিবৃতিতে কলকাতা পুলিশ বলেছে, “আজ রাত প্রায় ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে গিরিশ পার্ক থানার সারদা পার্ক (চোরাবাগান) পূজা মণ্ডপের বাহির হওয়ার গেইটে বৃষ্টি চলাকালে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে পদদলনের একটি ঘটনা ঘটেছে। আহতদের সবাইকে উদ্ধার করে এমসিএইচে নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ আরও জানায়, পূর্জা মণ্ডপটি এখন দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জন নারী, তিনজন পুরুষ ও একজন শিশু। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।
এদিকে উদ্বিগ্ন পরিবারের সহায়তার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। আপাতত দর্শনার্থীদের জন্য পূজামণ্ডপ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়েছে। নিজের প্রাণ বাঁচাতে সবাই দৌড়াতে শুরু করেছিলেন। পদপৃষ্টের মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। এখানে এত পুলিশ এবং ভলান্টিয়ার থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থাই প্রথমে নেওয়া হচ্ছিল না। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে মণ্ডপের কাঠামো সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পুলিশ এসেও সেই উদ্ধার কাজে হাত লাগায়।
ঘটনার পর পরিস্থিতি দেখতে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ও ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (এমসিএইচ) সূত্রের বরাতে এবিপি আনন্দ জানিয়েছে, হাসপাতালে যাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি আহতদের পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন সময়ে সাহস ও শক্তি দেওয়ার জন্য দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন।






























