কাশ্মীর ইস্যু : পাকিস্তানের পাশে থাকবে চীন

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পাঁচ দিন পার হয়ে গেছে। তারও আগ থেকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরিদের। কার্যত অচল হয়ে আছে গোটা অঞ্চল। দোকানপাট সব বন্ধ, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়াত করারও উপায় নেই সাধারণ জনগণের।

ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্তের আঁচ পড়েছে ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কেও। পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান, প্রত্যাহার করেছে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত নিজেদের হাইকমিশনারকেও। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্থগিত করার ঘোষণাও দিয়েছে ইমরান খানের সরকার। ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগও বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

এছাড়াও ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের লড়াইয়ে কাশ্মীরি জনগণকে রাজনৈতিক,কূটনৈতিকসহ সর্বপ্রকারের সহায়তা দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। শুক্রবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানায়, কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের পাশে থাকবে চীন। এটি নিয়ে পাকিস্তান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতেও চীন নিজের সমর্থনের কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থের প্রতি চীন তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। সম্প্রতি কাশ্মীরে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলেও এতে জানানো হয়।

চীন জানায়, তারা মনে করে, কাশ্মীর বিষয়ে একপাক্ষিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। ভারত ও পাকিস্তানকে ঐতিহাসিক বিদ্বেষ কাটিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানায় তারা। কাশ্মীরের বিষয়টি জাতিসংঘ সনদ, নিরাপত্তা পরিষদের বিধি ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে সুরাহা হওয়া উচিত বলে অভিমত তাদের।

বৈঠকের পর এক ভিডিও বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেন, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রী আড়াই ঘণ্টার ওই বৈঠককে দরকারি ও সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন । দেশটি কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন জানায়।

কারফিউ পরিস্থিতির পর কাশ্মীরে নতুন পর্যায়ে নিপীড়ন ও বর্বরতা চাপিয়ে দেওয়া হবে। এটি শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয় বরং আরো রক্তপাতের দিকে ধাবিত হবে বলে পাকিস্তানের আশঙ্কা। চীনকে এ উদ্বেগের কথা অবহিত করা হয় বলে জানান কোরেশি।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার মোড় অন্য দিকে ঘোরাতে (ভারত) পুলওয়ামার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, চীনকে সে আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে দুই দেশের মন্ত্রণালয় পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করবে যাতে করে যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ভারতের রাজ্যসভায় সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের ৭০ বছরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সংবিধানের এই ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে দুই ভাগ করা হয়।

৩৭০ ধারার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই স্বায়ত্তশাসিত ছিল জম্মু-কাশ্মীর। নিজস্ব সংবিধান, আলাদা পতাকা ও স্বতন্ত্র আইন বানানোর অধিকার ছিল ওই অঞ্চলের

বাসিন্দাদের। তবে ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে এখন থেকে জম্মু-কাশ্মীরের পরিচিতি হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে।