১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ যুবদল কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে পুরোনোরাই

বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ এই কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম (মুন্না)। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (নয়ন)। বৃহস্পতিবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা হয়।

নতুন ঘোষিত এই কমিটিতে দলের যুব সংগঠনের নেতৃত্বে পুরোনো নেতাদের ওপরই আস্থা রাখল বিএনপি। যুবদলের নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল মোনায়েম এখন সৌদি আরবে আছেন। তিনি পবিত্র হজ পালনে সৌদিতে গেছেন। তাঁর ওপর আস্থা রাখায় তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। আবদুল মোনায়েম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কথায় আছে না, পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে। আমি বলব, পুরোনোদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আস্থা ও বিশ্বাসের একটা বিষয় আছে। আশা করি, যুবদল সে আস্থার প্রতিদান দিতে সক্ষম হবে।’

কমিটিতে রেজাউল কবীরকে (পল) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, মো. কামরুজ্জামান জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটিতে ২৯ জন সহসভাপতি, ২৯ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২৩ জন সহসাধারণ সম্পাদক, ১২ জন সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ৫ জন আইনবিষয়ক সম্পাদক রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কমিটিতে মাত্র ১১ জনকে সদস্য করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ সদস্যকে সহসাধারণ সম্পাদকের পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্য সহসভাপতিরা হলেন জিয়াউর রহমান, কামাল আনোয়ার আহাম্মদ, মাহফুজুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম (দুলাল), শাহ আলম চৌধুরী, সাইদুর রহমান, সাব্বির আহমেদ (দিপু), আবদুল জব্বার খান, খন্দকার এনামুল হক, শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ইয়াসিন ফেরদৌস (মুরাদ), রফিক আহমেদ (ডলার), সাইদ ইকবাল মাহমুদ (টিটু), মোহাম্মদ ফিরোজ আবদুল্লাহ, মাহমুদুস সালেহীন, আতিকুর রহমান, জাকির হোসেন (উজ্জ্বল), এইচ এম তসলিম উদ্দিন, নাজমুল আলম, মো. আনোয়ারুল হক, আবু সাঈদ আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র), রহিম উদ্দিন (যুক্তরাজ্য), ফেরদৌস আহমেদ (মুন্না), তরিকুল ইসলাম (টিটু), লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মঞ্জুরুল আজিম (সুমন), আজিজুর রহমান আকন্দ ও নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে)।

প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বিল্লাল হোসেন তারেককে। অন্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকেরা হলেন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম (সোহাগ), আবু আতিক আল হাসান, শাহ নাসির উদ্দিন (রুমন), কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া, মঈনুদ্দীন রুবেল, আজহারুল ইসলাম (মিলন), এজমল হোসেন (পাইলট), ইখতিয়ার রহমান (কবির), রবিউল ইসলাম (নয়ন), সাজ্জাদুল মিরাজ, মিঞা মোহাম্মদ রাসেল, আবদুল করিম সরকার, শফিকুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, আবুল মনসুর খান (দীপক), খন্দকার আল আশরাফ (মামুন), আইয়ুব খান, শামসুজ্জোহা সুমন, তারেক উজ জামান তারেক, শোয়াইব খন্দকার, আশরাফুর রহমান (বাবু), আসাদুজ্জামান আসাদ, মো. আবদুল ওয়াহাব, হারুন অর রশীদ (হিরো) (সৌদি আরব), এম তমাল আহমেদ, সাজেদুল ইসলাম ও মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া (দপ্তরের দায়িত্বে)।

সহসাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন হাসান আল মামুন লিমন, মাসুদ খান পারভেজ, এন এম আবদুল্লাহ উজ্জ্বল, মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ, গিয়াসউদ্দিন মামুন, মামুন হোসেন ভূঁইয়া, রাহাদুল আলম খান, রুহুল ইসলাম (মনি), জাহিদ হাসান, আবু বকর সিদ্দিক পাভেল, খন্দকার মাইনউদ্দিন খোকন, সাখাওয়াত হোসেন (চয়ন), মাহবুবুর রহমান পলাশ, আরিফুল হক আরিফ, কামরুল হাসান খান সাইফুল, মাহবুবুর রহমান, আলমগীর কবির (সেলিম), মজিবর রহমান ভূঁইয়া (সবুজ), মেহেদী হাসান জুয়েল, মো. মাসুদুল হক, সাহাবুদ্দিন মুন্না, সামসুল আলম রানা ও আবুল বাসার সিদ্দিকী।

সহসাংগঠনিক সম্পাদকেরা হলেন এম এ গাফফার, আশরাফ ফারুকী (হীরা), মিজানুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সোহেল আলম, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার, সাইদুর রহমান (শামীম), রবিউল ইসলাম, আরিফুর রহমান, মাইনুল ইসলাম, খন্দকার রিয়াজ ও মো. রাশেদুল ইসলাম।

প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে আল মেহেদী তালুকদারকে। সহপ্রচার সম্পাদক হয়েছেন তারেকুর রহমান। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আশরাফ জালাল খান মনন। সহসাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন সাইদুর রহমান সোহেল। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক করা হয়েছে আমিনুর রহমান আমিনকে। কোষাধ্যক্ষ পদ পেয়েছেন রোকনুজ্জামান রোকন।

আইনবিষয়ক সম্পাদকেরা হলেন মুর্তজা কামাল মোস্তাক, ইউনুস আলী (রবি), নূরে আলম সিদ্দিকী (সোহাগ), তানভীর হাসান (সোহেল) ও গাজী মো. মাসকুরুল আলম (সৌরভ)।

এ ছাড়া কৃষিবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ সানোয়ার আলম, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির (লিংকন), শ্রমবিষয়ক সম্পাদক পার্থ দেব মণ্ডল, শিল্পবিষয়ক সম্পাদক কারীমুল হাই নাঈম, যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক সাজিদ হাসান বাবু, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম (রুমন), গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মহিন উদ্দিন (রাজু), বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পী, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান নান্নু, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক কে এস এম মুসাব্বির শাফী, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইমরান আহমেদ প্রিন্স, মৎস্য ও পশুপালনবিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান রনি এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক গালিব হাসান ও বেলাল হোসেন নাজিম।

আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে খায়রুজ্জামান লিঙ্কনকে সহসভাপতি পদমর্যাদায় এবং এ আর মামুন খান ও মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল আলম আকতার। প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান। পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক হেদায়েত হোসেন ভূঁইয়া। সহপাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ আল আমিন। এ ছাড়া বিভিন্ন সম্পাদকীয় ও সদস্যপদসহ মোট ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে এই কমিটি কাজ করবে। কমিটি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে ভূমিকা রাখবে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই যুবদলের ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে আবদুল মোনায়েম সভাপতি, রেজাউল কবীর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, নুরুল ইসলাম নয়ন সাধারণ সম্পাদক, বিল্লাল হোসেন তারেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কামরুজ্জামান জুয়েল সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নুরুল ইসলাম সোহেলকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছিল।