খাগড়াছড়িতে পিসিপি’র ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলাতে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার(১৬ই মে ২০২৬) খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় পিসিপি’র খাগড়াছড়ি জেলা শাখা এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
আলোচনা সভার ব্যানার শ্লোগান ছিল “ছাত্রসমাজকে ঘুম পাড়িয়ে পাহাড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে দেব না, আলুটিলায় ‘মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সের’ নামে ত্রিপুরাদের উচ্ছেদ ও পরিবেশ ধ্বংসের সর্বনাশা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন”।
সভায় পিসিপি’র খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি তৃষ্ণাঙ্কর চাকমার সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক রাজু ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ সংগঠক লালন চাকমা ও পিসিপি’র জেলা শাখার সদস্য পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য অপর্ণা চাকমা।
সভা শুরুতেই গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামে সকল শহীদদের স্মরণে ১মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ইউপিডিএফ সংগঠক লালন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জুম্ম ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম হচ্ছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। যে প্লাটফর্মে তরুণ উদীয়মান প্রজন্ম আন্দোলনে দিশা খুঁজে পায়।
১৯৮৯সালে ৪ঠা মে যখন লোমহর্ষক লংগদু গণহত্যা সংঘটিত হয় তখন তার প্রতিবাদ জানাতে শত বাধা-বিপত্তিকে তোয়াক্কা না করে প্রশান্ত ত্রিপুরা, ধীরাজ চাকমা, প্রসীত খীসাসহ সাহসী ছাত্রনেতাদের হাত ধরেই পিসিপি জন্ম লাভ করে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৯৭সালে পার্বত্য চুক্তির পরেও এখনো জুম্ম জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আঞ্চলিক পরিষদে বসে সন্তু লারমা চুক্তির নামে ভাওতাবাজি করে চলেছেন। অন্যদিকে খাগড়াছড়ি আলুটিলায় কথিত ‘মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স’ নির্মাণের নামে সেখান থেকে ত্রিপুরাদের উচ্ছেদের আয়োজন চলছে।
এর বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে সোচ্চার হতে হবে।
তিনি চুক্তির আশায় না থেকে এমএন লারমার যে স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন পূরণে এবং জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহব্বান জানান।
অপর্ণা চাকমা বলেন, ১৯৮৯সালের ৪মে লংগদু গণহত্যার প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে সে বছর ২০শে মে জন্ম লাভ করা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ শত দমন-পীড়নের মধ্যেও তার লক্ষ্যে অবিচল রয়েছে। জেল-জুলুম, হত্যা, নিপীড়নের মধ্য দিয়ে শাসকশ্রেণী পাহাড়ি ছাত্র পরিষদকে দমানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা সফল হয়নি।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে খুন, গুম, হত্যা, ধর্ষণ একটি নিত্যদিনের ঘটনা। গত বছরের ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাইবোন ছড়ায় ও সিঙ্গিনালায় ঘটে যাওয়া স্কুল ছাত্রীর ধর্ষণের ঘটনাগুলোর বিচাওে প্রশাসনের কোনো জোরালো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি, ধর্ষকরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়চ্ছে। বরং এই ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে গুইমারাই তিন জনকে সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়েছে।
তিনি বিচারহীনতার কারণে নারী সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ করেন এবং ছাত্র সমাজকে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহŸান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে তৃষ্ণাঙ্কর চাকমা বলেন, শত শহীদের রক্তবীজ থেকে জন্ম নেয়া পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এখনো তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। শাসকশ্রেণির ষড়যন্ত্রে আজ একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী পিসিপি’র নাম ভাঙিয়ে ছাত্রসমাজকে দ্বিধাবিভক্ত ও বিভ্রান্তির মধ্যে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যার থেকে ছাত্রসমাজকে সতর্ক থাকতে হবে।
ছাত্র সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জুম্ম ছাত্র ও যুব সমাজকে ধ্বংস করতে এবং আন্দোলন থেকে দূরে রাখতে শাসকশ্রেণির ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। ছাত্রসমাজের মধ্যে ইয়াবা, গাজা ইত্যাদি নেশাদ্রব্য ছড়িয়ে দিয়ে আন্দোলন থেকে দূরে ছড়িয়ে দিতে চাইছে। যা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।
তিনি শাসকশ্রেণির সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পিসিপি’র পতাকাতলে সমবেত হওয়ার জন্য ছাত্র সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।





























