সড়ক অবরোধ ঘোষণা দুই সংগঠনের
খাগড়াছড়িতে সাজেক পর্যটন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সাজেক পর্যটন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে আবারো সাজেকে সড়ক অবরোধ ঘোষণা পাহাড়ের দুই সংগঠন ডাকে কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির।
সরাসরি খাগড়াছড়ি হয়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং প্রশাসনের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি মুক্তমঞ্চে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সাজেকের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ সময় বক্তারা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রæুত সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, সাজেক ভ্যালি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সাজেকে ভ্রমণ করেন। পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটননির্ভর মানুষের জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তাঁরা আরও বলেন, সাজেকের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের অসংখ্য মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। পর্যটন কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এসব খাতের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রæুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে গত ১১ই অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(পিসিজেএসএস) সন্তু লারমা পক্ষের সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।
অবরোধের কারণে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এতে সাজেকগামী পর্যটকবাহী যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির এক নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, অবরোধের কারণে পর্যটকবাহী যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে গত ১১ই অক্টোবর রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের গত ১৩ই অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের পর সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে পর্যটনকেন্দ্রটি দ্রæত খুলে দেওয়া হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মানববন্ধন থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা, পর্যটন ব্যবসায়ীদের ক্ষতি বিবেচনায় নেওয়া এবং দ্রæুত পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এসব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
কর্মসূচি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান আয়োজকেরা।
এদিকে ৪৮ঘন্টা সময়সীমার মধ্যে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ সাজেকবাসীর ৩দফা দাবি পূরণে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় এবং শর্ত বা প্রতিশ্রæুতি ভঙ্গ করায় বৃহস্পতিবার(১৫ই অক্টোবর ২০২৬) থেকে আবারো সাজেকে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন।
বুধবার(১৪ই অক্টোবর ২০২৬) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহŸায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কারবারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে এই অবরোধের ঘোষণা দেন।
দুই সংগঠনের নেতৃদ্বয় বলেন, সাজেকের মাচলঙ এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী পিসিজেএসএস সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে আমরা গত ১১ই অক্টোবর ২০২৬ সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছি। ওই দিন প্রশাসন ৪৮ঘন্টা সময়ের মধ্যে সন্তু গ্রæুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ আমাদের তিন দফা দাবী মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল।
যার কারণে আমরা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ৪৮ঘন্টার জন্য স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু গতকাল ৪৮ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। উপরন্তু গতকাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাচলঙের চিল্ল্যাতুলি গ্রামে মিয়্যো চাকমা নামে এক সাধারণ গ্রামবাসীর ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নেতৃদ্বয় পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানগুলোতেই রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, তারা মাচলঙ এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে, জনগণকে হুমকি, ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে এবং গ্রামবাসীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিচ্ছে। সেনাবাহিনী লোকদেখানো অভিযান চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এমতাবস্থায় এলাকার জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার্থে এবং পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সন্ত্রাস ও উৎপাত বন্ধ করার জন্য তাদেরকে উক্ত এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে আবারো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
অবরোধ চলাকালে জরুরী ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরী ঔষধ সরবরাহকারী ও সংবাদপত্র বহনকারী যান, সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি এই অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে নেতৃদ্বয় বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় এলাকাবাসী-সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কর্মসূচি সফল করার আহŸান জানান।
























