আনসার সদস্য আহত- ৩

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা বিএনপি কর্মীদের দ্বারা কেন্দ্রে ভোট দখলকে কেন্দ্র করে হতাহতের ভোট গ্রহণ সম্পন

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ২৯৮নং আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯টি উপজেলা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হলেও মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপি কর্মীদের দ্বারা বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দখলকে কেন্দ্র করে হতাহতের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

১৩৯নং কেন্দ্র খেদাছড়া ডিপি পাড়া সরকারী প্রাথামিক বিদ্যালয়ে বিএনপি’র কর্মীরা ভোট দখল করতে আসা নিরাপত্তা নিয়োজিত থাকা ৩আনসার সদস্যকে হামলা চালিয়েছে। এতে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মো: আনোয়ার হোসেন(৩৫), রোকসানা বেগম(২৭) ও পিসি মো: হানিফ(৩৭) গুরুতর আহত হয়েছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা খেদাছড়া ডিপি পাড়া সরকারী প্রাথামিক বিদ্যালয়ে প্রিজাইডিং অফিসার মো: জাহিদ হাসান জানান, ঘটনাটি ৩টা থেকে ৩.৩৫মিনিটে মধ্যে কিছু বাইরে লোক এসে দখলে চেষ্টা করলে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী আনসার ৩সদস্যকে হামলা করে জখম করেছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য মাটিরাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের পাঠানো হয়েছে।

তবে ভোটারদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে খাগড়াছড়ির জেলা ব্যাপী সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা গ্রহন সম্পন্ন করে ভোট গননা চলছে।
বৃহস্পতিবার(১২ই ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরুু হয়ে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে ভোটারের সংখ্যা। বিশেষ করে নারী ভোটারের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো।

খাগড়াছড়ি টিটিসি, শিশু সরকারি প্রাথামিক বিদ্যালয়, সরকারি কলেজ, মাটিরাঙ্গা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটার চোখে পড়ার মতো।

সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, মোবাইল টিম ও আনসার স্ট্রাইকিং ফোর্স নির্ধারিত এলাকায় তৎপরতা দেখা গেছে। মাটিরাঙ্গা উপজেলা ছাড়া কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অন্যান্য উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি আসনের ২০৩টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে বুধবার সকাল থেকে জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুর্গম তিনটি কেন্দ্রে হেলিকপ্টারযোগে সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫লাখ ৫৪হাজার ১১৪জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২লাখ ৮০হাজার ২০৬জন, নারী ভোটার ২লাখ ৭৩হাজার ৯০৪জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪জন। পুরুষ ও নারী ভোটারের ব্যবধান খুবই সামান্য যা এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের গুরুত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ আসনে মোট ১১জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন, যার মধ্যে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন সবার দৃষ্টি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের দিকে।

ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও দুর্গমতার কারণে খাগড়াছড়ির কিছু ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছানো সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতায় দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের নাড়াইছড়ি কেন্দ্র এবং লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ও ফুত্যাছড়ি এলাকার দুটি কেন্দ্রে হেলিকপ্টারযোগে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট জনবল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন জানান, “দুর্গম এলাকাগুলোতে নির্বাচনীর অংশ হিসেবে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে সময়মতো ও নিরাপদে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা যায়।” ১২১কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তায় বহুস্তরীয় ব্যবস্থা ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে গত সোমবার বিকেল থেকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যৌথ টহল ও মহড়া শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদর রিজিয়ন থেকে বের হওয়া টহল দল জেলার প্রধান সড়কগুলোতে মহড়া দেয়।

তাদের সঙ্গে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরাও অংশ নেন।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ টহল কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি জোরদার করেছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলায় মোতায়েন থাকছেন,২হাজার ৬৩৯জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য ১হাজার ২৫০জন পুলিশ সদস্য, ৩০প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের একাধিক টহল দল, সেনাবাহিনীর মোবাইল টিম।

প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে গড়ে ১৩জন আনসার সদস্য ও ৩জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাবের টহল থাকবে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ ইনচার্জদের কাছে বডিওর্ন ক্যামেরা সার্বক্ষণিক চালু ছিল।

২০৩কেন্দ্রে ১,০৮৫ ভোটকক্ষ-খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসন ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত। এ আসনে রয়েছে খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, দীঘিনালা, গুইমারা, লক্ষীছড়ি, মহালছড়ি, রামগড় ও মানিকছড়িসহ মোট ৯টি উপজেলা। এছাড়া রয়েছে ৩টি পৌরসভা ও ৩৮টি ইউনিয়ন। এই বিস্তীর্ণ এলাকায় মোট ২০৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১,০২০টি স্থায়ী ভোটকক্ষ এবং ৬৫টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে,মোট ১,০৮৫টি ভোটকক্ষ।

নির্বাচনী দায়িত্বে থেকেছেন ২০৩জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ১ হাজার ১০০জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ২হাজার ২২০জন পোলিং কর্মকর্তা।

সিসিটিভির আওতায় ১৫৫কেন্দ্র-
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন জানান, “এবারের নির্বাচনে ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫৫টিতে সিসিটিভি স্থাপন নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও কার্যক্রম চলমান ছিল।” তিনি আরও জানান, দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সার্বিক তদারকিতে থাকবেন। জেলার প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র গুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়েছে।

তরুণ ও নারী ভোটারদের দিকে নজর-
এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ও নতুন ভোটার রয়েছেন, যারা ফলাফলে প্রভাব ফেলেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীদের তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। একই সঙ্গে নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় পুরুষ ভোটারের সমান হওয়ায় তাদের ভোট আচরণও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ ভোটের-
পাহাড়ের দুর্গমতা, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা এবং ভৌগোলিক বিস্তুতি, সবকিছু মিলিয়ে খাগড়াছড়ি-২৯৮আসনের নির্বাচন পরিচালনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রশাসনের দাবি, সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির ব্যবহার সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এখন সময়ের অপেক্ষা কড়া নিরাপত্তার এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের মানুষ কেমন রায় দেন, সেটিই দেখার।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা ৯টি উপজেলার ২৯৮নম্বর সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গত বুধবার(২১শে জানুয়ারি) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের তত্ত¡াবধানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতিনিধি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। নির্বাচন কমিশনের বিধি ও নির্দেশনা অনুসরণ করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

প্রতীক বরাদ্দ অনুযায়ী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভুইঁয়া পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত, এনসিপি’র ১০দলীয় জোট সংসদ সদস্য প্রার্থী পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা। জাতীয় পাটির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা পেয়েছেন লাঙ্গল প্রতীক। বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি(বিএমজেপি) থেকে উশোপ্রæু মারমা পেয়েছেন রকেট প্রতীক।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো: কাউছার পেয়েছেন হাতপাখা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে মো; নূর ইসলাম পেয়েছেন আপেল, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে মো: মোস্তফা পেয়েছেন হারিকেন এবং গণঅধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা পেয়েছেন ট্রাক প্রতীক।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি’র বিদ্রোহী হেভিয়েত প্রার্ধী সমীরণ দেওয়ান পেয়েছেন ফুটবল, জিরুনা ত্রিপুরা পেয়েছেন কলস এবং ধর্মজ্যোতি চাকমা পেয়েছেন ঘোড়া প্রতীক।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি’র বিদ্রোহী হেভিয়েত প্রার্ধী সমীরণ দেওয়ান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে পাহাড়ী-বাংগালী সকল জনগোষ্টির বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভুইঁয়া বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করি।

বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি(বিএমজেপি) প্রার্থী উশোপ্রæু মারমা বলেন, গত আওয়ামীলীগ সরকারে সময়ে প্রভাবিত মুক্ত না হওয়ায় বিএনপি’র যেমন অংশ গ্রহন করে নাই, ঠিক একই কায়দায় প্রভাবিত হওয়ার চরম আশংকা করেছেন। অন্য প্রার্থীরাও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রেখে একটি গ্রহনহণযোগ্য নির্বাচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর জন্য প্রার্থীদের প্রতি আহŸান জানানো হয়েছে।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি ২৯৮আসনে নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। গত বৃহস্পতিবার(২২শে জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে মাঠে নামবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা-
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান পেয়েছেন ফুটবল, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা কলস ও এই ছাড়া আরেক ধর্মজ্যোতি চাকমা ঘোড়া প্রতীক পেয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।

বুধবার (২১শে জানুয়ারি) খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আনোয়ার সাদাত আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন। এ সময় খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের ১১জন প্রার্থী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চূড়ান্ত প্রতীক বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন বিএনপির ওয়াদুদ ভূইয়া(ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর এয়াকুব আলী (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান (ফুটবল), জাতীয় পাটির মিথিলা রোয়াজা (লাঙ্গল), গণ অধিকার পরিষদের দিনময় রোয়াজা (ট্রাক), বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতা পাটির উশ্যেপ্রæু মারমা(রকেট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: কাউসার (হাতপাখা), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী(আপেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা(ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা(কলস) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো: মোস্তফা(হারিকেন)।

প্রতীক বরাদ্দ শেষে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস. এম. শাহাদাত হোসেন নির্বাচনী আচরণবিধি, প্রচারণা নীতিমালা ও আইনগত বিষয়াবলি তুলে ধরেন এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার আহŸান জানান।

২জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ঘিরে খাগড়াছড়ির ২৯৮নং আসনে দুই প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মনোনয়ন প্রত্যাহারের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি আসনের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০দলীয় জোটের শরিক হওয়ায় খাগড়াছড়ি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের শৃঙ্খলা ও জোটগত ঐক্য রক্ষার অংশ হিসেবে মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৮নং ওয়াডের ভূইয়া পাড়ার বাসিন্দা। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮নং আসন থেকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

দুই প্রার্থীর আবেদনই জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোনা রতন চাকমাও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

এর আগে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, এনসিপিসহ ১৬প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। জাতীয় নাগরিক পাটি(এনসিপি) মনোনয়ন প্রত্যাশী এড জুমা দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হলেও শেষমেষ ১০দলীয় জোটে প্রার্থী জামায়াত প্রার্থী সমর্থন দিতে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়নি।

এনপিপি ছাড়া মোট ১৫প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে ১৩প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। মংগলবার(২০শে জানুয়ারী) বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত এই দুই প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমার প্রতিনিধি মাধ্যমে এক ঘন্টার আগে মনোনয়ন প্রত্যাহার আবেদন দেওয়া হলে অদৃশ্য শক্তির কারনে আরো বহাল রেখে প্রতিনিধি ছাড়া (ঘোড়া) প্রতীক বরাদ্ধ প্রদান করে রিটানিং অফিসার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ধারা খাগড়াছড়িতে জোটভিত্তিক রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দেবে এবং আসনটি জোটভিত্তিক সমঝোতার মাধ্যমে লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

উল্লেখ্য, এ আসনে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপিসহ মোট ১৬জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে এনসিপি প্রার্থী ছাড়া ১৫জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে সাতজনের মনোনয়ন বৈধ, সাতজনের মনোনয়ন বাতিল এবং একজনের প্রার্থিতা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে আপিলে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা ফিরে পাওয়ায় মোট ১৩জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দুজন প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় শেষ পর্যন্ত এবারের নির্বাচনে ২৯৮নং খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে মোট ১১জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0;
shaking: 0.032746915; algolist: 0;
multi-frame: 1;
brp_mask:0;
brp_del_th:null;
brp_del_sen:null;
delta:null;
module: video;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: null;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: off;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 34;