২২ বছরের অপেক্ষার অবসান
খুলনার মাটিতে তারেক রহমান: রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা। সময়ের ব্যবধানে বদলে গেছে রাজনীতি, বদলে গেছে প্রেক্ষাপট। কিন্তু বদলায়নি খুলনার রাজনীতিতে এক নাম ঘিরে জমে থাকা আবেগ—তারেক রহমান। অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনার মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন—এমন খবরে গোটা নগরীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক আলোড়ন।
নগরীর অলিগলি, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয়—সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, “তারেক রহমান আসছেন।” বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উচ্ছ্বাস, আবেগ, প্রত্যাশা আর রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস।
মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিশাল নির্বাচনি জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে সকাল ১০টায় শুরু হবে এই সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, শুক্রবার রাতে খুলনা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জনসমাবেশের সময়, স্থান ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খুলনা–২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা–৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক ও খুলনা–৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা–৫ আসনের প্রার্থী আলি আসগর লবিসহ মহানগর ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
দলীয় সূত্র জানায়, এই জনসমাবেশকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নির্বাচনি সমাবেশে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খুলনা মহানগর ও জেলার পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। আনুমানিক আট লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশ সফল করতে ছয়টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমন্বয়, আবাসন, শৃঙ্খলা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, স্বেচ্ছাসেবক ও পরিবহন উপকমিটি। ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ ও আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। ইতোমধ্যে নগরী ও জেলায় মাইকিং, পোস্টার ও লিফলেটের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়েছে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, তারেক রহমানের খুলনা আগমন শুধু একটি নির্বাচনি কর্মসূচি নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে চাপে থাকা নেতাকর্মীদের সাহস, মনোবল ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার মুহূর্ত। ২২ বছর পর প্রিয় নেতাকে নিজ শহরের মাটিতে দেখতে পাওয়া আমাদের জন্য গর্ব ও আবেগের।
তিনি আরও বলেন, খুলনা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই সফর দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের খুলনা সফর কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—এটি খুলনার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই সফর বিএনপির নির্বাচনি কৌশল, সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খুলনা অঞ্চলে এই জনসমাবেশ আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৪ সালে খুলনায় এসেছিলেন তারেক রহমান। দুই দশকের বেশি সময় পর আবারও খুলনার মাটিতে তার পদচারণা—এই মুহূর্তকে ঘিরে খুলনার রাজনীতি এখন অপেক্ষায়, উত্তেজনায় ও সম্ভাবনায় মুখর।
২২ বছরের প্রতীক্ষা শেষে, খুলনা যেন আবারও ইতিহাসের এক নতুন বাঁকে দাঁড়িয়ে।






























