টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলা সহ আন্যান্য ৪জেলায় প্রাণহানি ৫১

টানা সাতদিন অতি বর্ষনে ফলে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার পাশাপাশি আন্যান্য ৪জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫১জনের দাড়িয়েছে।
খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের কারণে সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির হতাহত সৃষ্টি হয়েছে।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০লাখ ২২হাজার ৯৬৩জন মানুষ। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২লাখ ৬৭হাজার ৯১৮টি পরিবার। এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫১জন এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

রোববার (১২ই জুলাই) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সাত জেলা হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ১হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪হাজার ৪৫৭জন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম। জেলার ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ১লাখ ৪৮হাজার ৫০০পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫লাখ ৯৫হাজার। জেলায় ১৩জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২জন। ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২১হাজার ৯০০মানুষ অবস্থান করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ, শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

কক্সবাজারে ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী ৩৯হাজার ৫০৬পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১লাখ ৫৮হাজার ২৭জন। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা মিলে মোট ২৮জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ১৩জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২৪জন, তাঁদের মধ্যেও পাঁচজন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

জেলার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১হাজার ৫৮০জন আশ্রয় নিয়েছেন।

পার্বত্য বান্দরবানে সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে পানিবন্দী হয়েছে ১২হাজার ৫০০পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩হাজার ৫০০জন। সেখানে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন দুজন। ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৬হাজার ২৫০জন।

পার্বত্য রাঙামাটিতে নয়টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দী ১হাজার ৪৪টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩হাজার ৫২৪জন। সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩হাজার ৬৩৭জন আশ্রয় নিয়েছেন।

পার্বত্য খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ১হাজার ৭৩টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৪হাজার ৪১৭জন। সেখানে একজন আহত হয়েছেন। জেলার ১৫০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২হাজার ৮৮৩জন আশ্রয় নিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ৭হাজার ৩০৮পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৬হাজার ৫৪৪জন। সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২হাজার ১৭২জন আশ্রয় নিয়েছেন।

হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ৬হাজার ৪৪৪পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৮হাজার ১৪০জন। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে এখনো কেউ আশ্রয় নেননি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৫ থেকে ১২ই জুলাই পর্যন্ত সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য ২কোটি ৮৫লাখ টাকা নগদ এবং ৩হাজার ২৫০মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ৬৪জেলার জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে মোট ৪কোটি ৬০লাখ টাকা এবং ৮হাজার ৯৫০মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এদিকে পাহাড় ধস ও বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০লাখের বেশি, পাঁচ জেলায় ভূমিধসের সতর্কবার্তা, ১১-১২ই জুলাই অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। বন্যা ও পাহাড় ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৪৪জনের মত্যুর তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সৃষ্ট এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত জেলার ১০লাখ ২২হাজার ৯৬৩জন মানুষ। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ, এ সাত জেলা বন্যার কবলে পড়েছে।
গত শনিবার (১১ই জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, এসব জেলার ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে।

সাত জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২লাখ ৬৭হাজার ৯১৮টি পরিবার।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বন্যা ও পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড় ধস ও বন্যায় ২৩জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১০জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩জন রোহিঙ্গা নাগরিক। কক্সবাজারে আহত হয়েছেন ২৪জন।

বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে বন্যা ও দেয়াল ধসের ঘটনায় ১১জন নিহত এবং ১২জনের আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ঢলের পানিতে ভেসে ও পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৬জন; আহতের সংখ্যা ২জন। আরেক পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩জনের। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা মৌলভীবাজারে বন্যায় ১জনের মৃত্যু হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক ও পূর্ণ জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ৭লাখ ৫৯হাজার ৫৩০জন মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

চট্টগ্রামে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১লাখ ৮৮হাজার ৬৪৮টি। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ১০টি উপজেলার ১লাখ ৫৮হাজার ২৭জন মানুষ বন্যাকবলিত এবং ৩৯হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দি।

অন্যান্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় ২৭হাজার ২২০জন, রাঙ্গামাটির ৯টি উপজেলায় ৩হাজার ৫২৪জন, বান্দরবানের ৭টি উপজেলায় ৮হাজার ৩৫০জন, মৌলভীবাজারের চার উপজেলায় ৩৮হাজার ১৭২জন এবং হবিগঞ্জের তিন উপজেলায় ২৮হাজার ১৪০জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ১১ ও ১২ই জুলাই খাগড়াছড়িসহ দেশের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত শুক্রবার(১০ই জুলাই) রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানায়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার কোথাও কোথাও ১১ ও ১২ই জুলাইয়ের মধ্যে মোট ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ঘণ্টায় (১০ই জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) চট্টগ্রামে ১১৯মিলিমিটার, বান্দরবানে ১০৫মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। খাগড়াছড়িতে গত মঙ্গলবার বেলা ১টা পর্যন্ত আগের ১৮ঘণ্টায় দীঘিনালায় ৯০মিলিমিটার থেকে ১১৫মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঢাল ও পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহŸান জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া ভারী বর্ষণের সময় প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি সড়কে চলাচল থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে কোনো সা¤প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে বলেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এমপি।

গত শনিবার (১১ই জুলাই) বিকেলে খাগড়াছড়িতে এসে প্রতিমন্ত্রী জেলা সদরের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সদরের উত্তরগঞ্জপাড়া, মেহেদীবাগ, নিচের বাজারসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করেন দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এ সময় জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মোরতজা আলী খাঁন, পৌর প্রশাসক রুমানা আক্তার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. এন. আফসারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা এবং জনজীবনে দুর্ভোগের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

গত মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় তরুণদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমন্বিতভাবে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার আহŸান জানান।

ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি দুর্যোগকবলিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহŸান জানান। একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ করেন।

পাহাড় ধসের উচ্চঝুঁকিতে মানুষ টানা সাতদিন অতি বর্ষণে ৯াট উপজেলাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, টানা বৃষ্টিতে জেলাতে জনজীবন বিপর্যস্ত, বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ৯টি উপজেলাতে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস আশংকা ও জলাবদ্ধতা: জনজীবনে স্থবিরতা, ভোগান্তিতে পড়েছে নিচু এলাকার বসবাসকারী মানুষজন।

গত রোববার (৫ই জুলাই) থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়া শুক্রবার(১০ই জুলাই) পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ফলে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলায় একাধিক স্থানে পাহাড় ধস আশংকা ও জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাতে চেঙ্গী নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ায় খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে অতি ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলা সদর থেকে মুবাছড়ি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং সমতল এলাকাগুলো বন্যায় প্লাাবিত হয়েছে।

গত শুক্রবার(১০ই জুলাই) মহালছড়ি উপজেলা সদর থেকে অত্র ইউনিয়নে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ডুবে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে মুবাছড়ি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। এছাড়াও অসুস্হ রোগী, স্কুল/কলেজের ছাত্র-ছাত্রী,সরকারি -বেসরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরে কর্মকর্তা কর্মচারীরা মহা বিপাকে পড়েছে।

মহালছড়ি উপজেলা থেকে মুবাছড়ি যাওয়ার পথে কাপ্তাই পাড়া নামক স্থানে গত বর্ষা মৌসুমে একটি ব্রিজ ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে এলজিইডি থেকে ব্রিজ টেন্ডার হয়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শুকনো মৌসুমে ব্রিজের কাজটি ধরলেও কাজের ধীরগতি কারণে কাজটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফলে এ বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই লেগের পানি জলাবদ্ধতা হয়ে অত্র ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়তে হল।

এলাকাবাসীর দাবি দ্রæুত যাহাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করে এ বিষয়ে এলজিডির উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রæুত কাজ শেষ করার জন্য বলা হয়েছে।

পাহাড় ধসের অতি ঝুঁকিতে শত শত পরিবার বসবাস করতে হচ্ছ্।ে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত রোববার(৫ই জুলাই) রাত থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত শুক্রবার পর্যন্তও অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি, পানছড়ি, লা²ীছড়ি, মানিকছড়ি, রামগড় ও দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও পাহাড় ধস বা প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ভারী বর্ষনে আশঙ্কা আরও বেড়ে যাওয়ায় দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১টা পর্যন্ত আগের ১৮ঘণ্টায় দীঘিনালায় ৯০মিলিমিটার থেকে ১১৫মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভারী বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের কলাবাগান, গুগড়াছড়ি, নুনছড়ি বাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপীঠ, আঠারো পরিবার, রাজ্যমনি পাড়া, কালাডেবা, বটতলী, শালবন ও মোহাম্মদপুর এলাকা এবং দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ও মেরুং এলাকার নিচু অংশ প্লাবিত হয়েছে।

একই সঙ্গে মাইসছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা ও মানিকছড়িসহ জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকা এবং পাহাড়ের ঢালে বসবাসরত শত শত পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুুতি গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত এক জরুরি বার্তায় জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রæত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুুত রাখা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের(ইউএনও) পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবক দলও সার্বক্ষণিক প্রস্তুুত রয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়িতে জনজীবন অতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার একাধিক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে দীঘিনালা-লংগদু, দীঘিনালা-সাজেক ও খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুুত রেখেছে।

টানা সাতদিনের ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির স্বাভাবিক জনজীবন। গত রোববার(৫ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া শুক্রবার (১০ই জুলাই) পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি দিনভর অব্যাহত থাকায় চেঙ্গী নদীসহ জেলার বিভিন্ন ছড়া-খালের পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে নিম্নাঞ্চলের সড়ক, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, আরামবাগ, মেহেদীবাগ উত্তর গঞ্জপাড়া, পৌরসভার রাজ্যমনি পাড়া, কালাডেবা, বটতলি, ফুটবিল এবং গুগড়াছড়ি, মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি বাজারের সড়ক বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

বিঘিœত হচ্ছে আন্ত: সড়ক চলাচল। জেলা শহরের কলাবাগান, নান্সীবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপিঠ, আঠারো পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবার এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং সদর উপজেলার মধ্য শালবন, সবুজবাগ, শালবনসহ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। জেলা সদরসহ শালবন, ভুয়াছড়ি, গুগড়াছড়ি এলাকায়ও আংশিক পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসন এসব এলাকার বাসিন্দাদের পাহাড়ের পাদদেশ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহŸান জানিয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অনেক এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অসংখ্য পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার(৫ই জুলাই) থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের বিভিন্ন অংশ পানি উঠেছে। স্টিল ব্রিজ, বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকায় সড়কে পানি উঠেছে। ফলে সোমবার বিকেল থেকে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গত বুধবার(৮ই জুলাই) সকালে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আংশিক যোগাযোগ চালু রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কোথাও কোথাও যাত্রীদের নৌকা দিয়ে সড়ক পার হতে দেখা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ওই সড়কেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মাইসছড়ি এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। এই পানি দিয়েই সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হচ্ছে। সেচের নালার ¯øুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রæুত নামতে না পারায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বৃষ্টিতে জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি দ্রæুত বাড়ছে। জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন নিচু এলাকায় এরইমধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। অনেক পরিবারকে গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা গেছে।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) হাসান মারুফ বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুুতি নেওয়া হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রæুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করেছেন। যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুুতি রয়েছে। শুষ্ক খাবার এবং পর্যাপ্ত সুপেয় পানি রাখা হয়েছে। তা ছাড়া বন্যা হওয়ার আশঙ্কা এমন এলাকাগুলোতে আশপাশের স্কুলগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে তৈরি রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। “সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পাহাড় ধসের আশংকা সড়ক সচল রাখতে প্রস্তুুত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে।” তিনি আরও জানান, জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ১৩৫টি আ¤্রয়কেন্দ্র প্রস্তুুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুুতি রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশবাদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড় কাটা ও অপরিকল্পিত বসতির কারণে এমন দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা এবং পূর্বপ্রস্তুুতি না থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত আরো বলেন, আপাতত সব ধরনের সচেতনতামূলক ও দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। আজকের দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ মুহূর্তে তেমন একটা পাহাড় ধসের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে বিমান ও ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির কারণে গত শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

অপরদিকে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে চলমান ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার(৯ই জুলাই ২০২৬) বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: রেজুয়ান খান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে কন্ট্রোল রুমটি চালু করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে উপ-সচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল(মোবাইল: ০১৭১২-৮৪০৮৩৭) এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: আজিজুল ইসলাম(মোবাইল: ০১৭২৬-০০৭৬৯৩)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জনগণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহŸান জানিয়েছে।