নেত্রকোনার মদনে তলিয়ে গেছে ৪ হাজার হেক্টর বোরো জমি, ক্ষতিগ্রস্ত ৯ হাজার কৃষক

নেত্রকোনার মদনে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়ে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। রোদ না থাকায় জমি থেকে কেটে আনা ধান শুকানোও যাচ্ছে না। উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ধারণা, এবার হাওরাঞ্চলে প্রায় ৯ হাজার কৃষক ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছেন।

টানা কয়েক দিন বৃষ্টির পর গত বৃহস্পতিবার হালকা রোদ উঠলেও শুক্রবার সকাল থেকে আকাশে মেঘ জমে। পরে গতকাল রাতে বৃষ্টি শুরু হয়। আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মাঝারি ও ভারী বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এমন অবস্থা প্রায় পাঁচ দিন ধরে। জমি থেকে কেটে আনা ভেজা ধান খলা, স্কুল মাঠে বা বাড়ির উঠানে রাখা হয়েছে।

একদিকে হাজার হাজার একর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, অন্যদিকে রোদ না থাকায় কেটে আনা ধান নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের কেশজানি গ্রামের কৃষক মজু মিয়া জানান, আমি গনেশের হাওরে দুই একর জমি চাষ করেছিলাম।যখন কাটার প্রস্থতি নিয়ে ছিলাম। হারভেস্টার মেশিন ঠিক করা ছিল। শুক্রবার রাতবর ঢলে আমার পাকা জমি তলিয়ে গেছে। আমার সংসারে ১০ জন সদস্য আছে কিভাবে সারা বছর চলব বুঝতে পারছি না। এই জমির ধানের আয় দিয়েই আমার সংসার সারা বছর চলত।

বর্গাচাষী আনোয়ার জানান, আমি তিন একর জমি ঋন করে বর্গায় চাষ করে ছিলাম। শুক্রবার আমার চোখের সামনেই ডুবে গেছে। কিভাবে ঋন পরিশোধ করব ভাবতে পারছিনা। জানি না পরিবার নিয়ে বাড়িতে থাকতে পারব কিনা ফতেপুর ইউনিয়নের হাসনপুর গ্রামের ফৌজদার মিয়া জানান, আমি ৫ একর বোরো জমি চাষ করে ছিলাম। তিন একরেই তলিয়ে গেছে। কিছু ধান সংগ্রহ করে হাসনপুর স্কুল মাঠে আজ চার দিন ধরে শুকানোর জন্য নিয়ে আসলাম। কিন্তু শুকানো যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার কিছু শুকানো হইছিল। শুক্রবার ধান মেলাতেই পারলাম না, বৃষ্টি আর বৃষ্টি অনেক ধানে গ্যাজ এসে গেছে। দামও পাইতাছি না। না হয় ধান বিক্রি করে দিতাম।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, নদ-নদী ও টানা পাহাড়ী ঢলে পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার হাওরাঞ্চল মদনে ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে ৮ হাজার ৪৭০ জনের মতো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বছর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে।