পানির অধিকার নিয়ে দেশের প্রথম উপকূলীয় পানি সংসদ

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় অভিঘাত বহন করছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল। লবণাক্ততার বিস্তার, নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন উপকূলের লাখো মানুষ। এ বাস্তবতায় নিরাপদ পানির অধিকার ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের দাবিতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কোস্টাল ওয়াটার পার্লামেন্ট-২০২৬ (উপকূলীয় পানি সংসদ)’। এতে উপকূলের তরুণ-যুব প্রতিনিধিরা ছায়া সংসদের মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা, দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিম এ আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল একশনএইড বাংলাদেশ, বারসিক, সিডো সাতক্ষীরা ও এসসিএফ। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল দ্য এডিটরস। এছাড়া শ্যামনগরের ৪২টি যুব সংগঠন এ উদ্যোগের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।
জাতীয় সংসদের আদলে আয়োজিত প্রতীকী এই সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল গঠন করা হয়। ৪০ সদস্যের সংসদে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সরকারি দলের চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা ও সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। প্রশ্নোত্তর, আলোচনা, প্রস্তাব ও সুপারিশের মধ্য দিয়ে পরিচালিত অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা উপকূলীয় অঞ্চলের পানি সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
গাবুরা, পদ্মপুকুর, কৈখালী, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর, ঈশ্বরীপুর, আটুলিয়া, কাশিমাড়ি ও শ্যামনগর পৌরসভার প্রতিনিধিরা জানান, কোথাও কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়, কোথাও বৃষ্টির পানিই একমাত্র ভরসা। অনেক এলাকায় লবণাক্ত ও দূষিত পানি ব্যবহারে বাধ্য হওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
গাবুরা ইউনিয়নের প্রতিনিধি হাবিবুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাদের এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট দীর্ঘদিনের। এই পানি সংসদের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সংগঠিতভাবে সেই বাস্তবতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের প্রতিনিধি মো. সালাউদ্দিন দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং খাল-নদী পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কৈখালী ইউনিয়নের প্রতিনিধি হেনা পারভীন বলেন, নীতিনির্ধারণী আলোচনায় উপকূলের তরুণদের অংশগ্রহণ সীমিত। এই উদ্যোগ তাদের মতামত সরাসরি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
শ্যামনগর পৌরসভার প্রতিনিধি মমিনুর রহমান বলেন, নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা এবং যৌক্তিক দাবি তুলে ধরা প্রয়োজন।
অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির সুরক্ষা, নদী ও মিঠাপানির উৎস পুনরুদ্ধার এবং উপকূলবান্ধব জাতীয় নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শরুব ইয়ুথ টিমের পরিচালক জান্নাতুল নাঈম বলেন, উপকূলীয় পানি সংসদ শুধু প্রতীকী আয়োজন নয়; এটি জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কণ্ঠস্বরকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার একটি অংশগ্রহণমূলক প্ল্যাটফর্ম। তিনি জানান, সংসদে গৃহীত সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠানো হবে, যাতে নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়।






























