বিদেশি ফলের ঊর্ধ্বগতির দামে গরিবের দীর্ঘশ্বাস, নাতনির জন্য ফলও কিনতে পারলেন না সোবহান

বিদেশি ফলের ঊর্ধ্বমুখী দামে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে আপেল, আঙুর, কমলা, বেদানাসহ বিভিন্ন ফল। ফলে অসুস্থ রোগী কিংবা শিশুদের জন্যও সামান্য ফল কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দরিদ্র পরিবারগুলোকে। এমন বাস্তবতার এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র দেখা গেছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারে।
সম্প্রতি রাজগঞ্জ বাজারের বটতলা মোড়ের একটি ফলের দোকানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। রাজগঞ্জের ঝাঁপা গ্রামের দরিদ্র শ্রমজীবী সোবহান (৬৫) মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার আগে দুই নাতনির জন্য দুটি আপেল কিনতে দোকানে যান। দোকানদার দুটি ছোট আপেল ওজন করে জানান, দাম ৬০ টাকা।
দাম শুনে আপেল না নিয়ে তিনি দুটি কমলা ওজন করতে বলেন। কিন্তু সেগুলোর দামও ৬০ টাকা হওয়ায় হতাশ হয়ে ফল না কিনেই ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।
এ সময় দোকানদার জানতে চান, “চাচা, ফল নেবেন না?”
জবাবে সোবহান বলেন, “আমার কাছে এত টাকা নেই। মেয়ের বাড়ি যাব, দুইটা ছোট নাতনি আছে। ভাবছিলাম দুইটা ফল নিয়ে যাব। তা আর হলো না। এসব ফল গরিবের ভাগ্যে নেই।”
ঘটনাটি উপস্থিত এই প্রতিনিধির সামনেই সম্প্রতি ঘটেছিলো।
রাজগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা যায়, আপেল, আঙুর, কমলা, বেদানা ও নাশপাতিসহ প্রায় সব বিদেশি ফলের দাম প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার নিচে নেই। কিছু ফলের দাম আরও বেশি।
রাজগঞ্জ বাজারে কথা হয় কয়েকজন নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে। দিনমজুর মোবারক আলী বলেন, “সারাদিন রোদে কাজ করে ৩৫০-৪০০ টাকা মজুরি পাই। সেই টাকা দিয়ে চাল-ডাল কিনতেই শেষ হয়ে যায়। বিদেশি ফল কেনা আমাদের কাছে এখন বিলাসিতা।”
আরেক শ্রমজীবি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “অসুস্থ হলে ডাক্তার ফল খেতে বলেন। কিন্তু বাজারে এসে ফলের দাম শুনে ফিরে যেতে হয়। গরিব মানুষের জন্য ফল এখন স্বপ্নের মতো।”
ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ ও বাজার পরিস্থিতির কারণে বিদেশি ফলের দাম বেড়েছে। ফলে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় বাজার তদারকি এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সচেতন মহলের মতে, ফল মানুষের পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস। তাই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি ফলের দামও সহনীয় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমানে বিদেশি ফলের উচ্চমূল্যে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে পুষ্টিকর খাবারও যেন ধীরে ধীরে অধরাই হয়ে উঠছে।






























