বিদ্যুৎ নিয়ে দুষ্টু লোকেরা বলে, ‘টুকু আসে, টুকু যায়’ : সংসদে রুমিন ফারহানা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে দুষ্টু লোকেরা বলে, ভালো লোকেরা অবশ্য বলে না—তারা বলে, “টুকু আসে, টুকু যায়”। এই আসে, এই যায় কতক্ষণ থাকে, তারা নাকি বুঝতে পারে না।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন তিনজন আছেন, ৬৪ জেলায় ৬৪টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে মন্দ হতো না।’
তিনি বলেন, ‘সংসদে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গেলে মুশকিল হলো, যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, তিনি হয় ব্যঙ্গ অথবা বাক্চাতুর্য দিয়ে বিষয়টি ঘুরিয়ে ফেলেন। ৬৪ জেলায় ৬৪ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে মন্দ হতো না। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতোই ভালো অবস্থা।’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, জ্বালানি নিয়ে কী আর বলব। গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে দুষ্টু লোকেরা বলে, ভালো লোকেরা অবশ্য বলে না—তারা বলে, “টুকু আসে, টুকু যায়”। এই আসে, এই যায় কতক্ষণ থাকে, তারা নাকি বুঝতে পারে না। একদিকে তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের হাহাকার, গ্যাসও পাওয়া যায় না।’
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার বক্তব্য মূল্যস্ফীতি নিয়ে। মানুষ মূল্যস্ফীতি নিয়ে অস্বস্তিতে আছে। সরকারের অগ্রগতি ছিল আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা।’
তিনি বলেন, ‘সরকার যখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অথচ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ৬২ হাজার লোক তাদের চাকরি হারিয়েছেন, ৯০০-এর বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান কি সৃষ্টি হবে, নাকি যাদের চাকরি আছে তাদের চাকরি কতদিন থাকে, আল্লাহ মাবুদ জানেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে মানুষ যখন যায়, ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। ডিমের দাম বেড়েছে। মিনিকেটের দাম বেড়েছে। টিসিবির লাইনে আমরা দীর্ঘ লাইন দেখি।’
এর আগে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের শব্দচয়ন নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। এ সময় বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিরোধী শিবিরের প্রায় সব সংসদ সদস্যই দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। পরিস্থিতি সামলাতে স্পিকারকে হিমশিম খেতে হয়।






























