রামুতে শসার বাম্পার ফলন, কম সময়ে ভালো ফলন, লাভের আশায় কৃষকের মুখে হাসি

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় চলতি মৌসুমে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শসার ফলন ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় শসা চাষ করে লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন কৃষকরা।
রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া ও খুনিয়াপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এবার ব্যাপকভাবে শসার আবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফকিন্নিরচর, নাপিতের চর, ফাঁকিরকাটা চর, তিতারপাড়া চর ও মৌলভীরকাটা এলাকায় এবং গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজরবিল, জুমছড়ি ও টাইমবাজার এলাকায় বিস্তীর্ণ জমিতে শসার চাষ হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শসা চাষে তুলনামূলক কম সময়ে ফলন পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাজারে সারা মৌসুমে শসার চাহিদা থাকায় কৃষকদের মধ্যে এ সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়া এবং গাছে প্রচুর শসা ধরায় কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাক আহমদ, নূর আহমদ ও নুরুল আফসার জানান, তারা শসা চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে প্রচুর শসা ধরেছে। বাজারদর ভালো থাকলে এবার শসা বিক্রি করে আশানুরূপ লাভ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণসহ শসা চাষের বিভিন্ন ধাপে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এতে চাষাবাদে নানা ধরনের সুবিধা হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে।
কৃষকরা বলেন, “কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম সব সময় আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী শসার জমিতে সার, সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছি। এতে ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে এবার ভালো লাভের আশা করছি।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলাই কৃষি বিভাগের অন্যতম লক্ষ্য। শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভালো ফলন ও লাভের জন্য উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রামুর বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা শসা, বিভিন্ন জাতের সবজি ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য চাষ করছেন। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে তাদের পাশে রয়েছে। কৃষকরা যাতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান এবং চাষাবাদের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে লক্ষ্যেও পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শসার পাশাপাশি অন্যান্য লাভজনক সবজি চাষে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করা গেলে রামুর কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে পতিত জমি চাষের আওতায় এনে সবজি উৎপাদন বাড়ানো গেলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকদের আয়ও বাড়বে।
চলতি মৌসুমে শসার বাম্পার ফলন রামুর কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। এখন উৎপাদিত শসার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন এবং আগামীতে এ অঞ্চলে শসাসহ বিভিন্ন সবজি চাষের পরিমাণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।





















