নওগাঁর বদলগাছীতে সার নয় ছয় করার চেষ্টার অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছীতে আমন ধানের জন্য মাঠ তৈরি ও বীজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা‌। কৃষি প্রধান এই উপজেলার কৃষকদের কপালে আজ চিন্তার ভাঁজ। দিশেহারা হয়ে দিনাতিপাত করছে তারা সার সংকটের কারণে।

চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ থাকলেও সার পাচ্ছে না কৃষকরা। সিন্ডিকেটের কবলে তারা জিম্মি। আর এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা খোদ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকার।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় বিসিআইসি ডিলার রয়েছে ১০টি এবং বিএডিসি ডিলার রয়েছে ১৯ টি। এছাড়াও ৮টি ইউনিয়নের ৭২ ওয়ার্ডে ৭২টি খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছে। ডিলার এবং খুচরা সার বিক্রেতাগণ সরকারিভাবে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সার বরাদ্দ পান।

সারের বাৎসরিক চাহিদা ইউরিয়া ৬২৯০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৬১৮ মেট্রিক টন, ডিএপি ৪১০০ মেট্রিক টন, এমওপি ২৪৮০ মেট্রিক টন। চাহিদা অনুযায়ী সরকার পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করছে। খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের মূল্য ২৭ টাকা, টিএসপির মূল্য ২৭ টাকা, ডিএপির মূল্য ২১ টাকা এবং এমওপির মূল্য ২০ টাকা। কিন্তু কৃষককে কিনতে হয় ইউরিয়া ৩০ টাকা, টিএসপি ৩৫ টাকা, ডিএপি ৩৬ টাকা এবং এমওপি ২৪ টাকায়।

শুধুমাত্র সিন্ডিকেটের কারণেই কৃষককে প্রতি কেজি সার ৪ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে কৃষককে কিনতে হচ্ছে। আর এ কাজে জড়িত রয়েছে খোদ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকার। সজল সরকার বিভিন্ন ডিলারকে কালো বাজারিদের ৫০ বস্তা করে সার দেওয়ার জন্য জোর জোবরদস্তি করেন।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর বদলগাছী সদরের মেসার্স আলম ট্রেডার্সের ম্যানেজার মনোরঞ্জনকে এক কালোবাজারিকে ৫০ বস্তা সার দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু তিনি দিতে অস্বীকার জানান। এরপর থেকেই কৃষি অফিস থেকে আলম ট্রেডার্সের উপর বিভিন্ন বিষয়ে চাপ আসতে থাকে।

মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ করিম আলম বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজল সরকার আমার ম্যানেজারকে ফোন করে বলে একজন যাবে তাকে ৫০ বস্তা সার দিবেন। কিন্তু আমি দিব না বলে জানিয়ে দিয়েছি।

জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা সজল সরকার বলেন, আমি তো চাপ প্রয়োগ করিনি। তাকে বলেছি যদি সুযোগ থাকে তাহলে যেন ৫০ বস্তা সার দেওয়া হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান এ বিষয়ে বলেন, আমি নতুন এসেছি খুব দ্রুতই সার সমস্যা সমাধান করবো। তবে সার সিন্ডিকেটের মুল হোতা সজল সরকারের বিষয়টি তিনি এরিয়ে যান।

এ বিষয়ে উপজেলা সার ও বীজ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা সার সিন্ডিকেটের সাথে জরিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ এ ধরণের কাজ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হবে।