ভারত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযানের জন্য প্রস্তুত: রাজনাথ সিং

ভারত যুদ্ধ নয়, শান্তি চায় উল্লেখ করে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারতের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা ভেবে ভুল করা যাবে না। প্রতিবেশী একটি দেশ যত দিন সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে যাবে, তত দিন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।
রোববার এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে রাজনাথ সিং এ কথা বলেন। এক দিনের এই সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের নেতারা অংশ নেন।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত শান্তিতে বিশ্বাস করে, যুদ্ধ চায় না। ভারত অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না, কাউকে হুমকিও দিতে চায় না। তবে নীরবতা আর দুর্বলতার মধ্যে পার্থক্য আছে। তিনি বলেন, ‘ভারত শান্তি চায়, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। আমাদের প্রতিবেশী দেশ যত দিন সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে যাবে, তত দিন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালানোর জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব—এ কথাই আমরা তাদের এবং বিশ্বকে জানাতে চাই।’
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।
রাজনাথ সিং বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাস করে, তবে কোনো দেশ যদি সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়, তাহলে সেখানে তখনই সেই সংলাপের সমাপ্তি ঘটবে। ভারত সহযোগিতা চায়, তবে জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।
সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ যুদ্ধে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্যযুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন। সেনাপ্রধান বলেন, প্রযুক্তি সরাসরি লড়াইয়ের সময়কাল অবশ্যই কমিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু এর ফলে যুদ্ধ যে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে, তা নয়। তাঁর মতে, যুদ্ধ জয়ের একমাত্র অনস্বীকার্য মানদণ্ড হলো স্থলভাগের জয়।
জেনারেল ধীরাজ আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধের একের পর এক খবর-বিশ্লেষণ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। সেখানে একের পর এক বয়ান এবং তথ্যযুদ্ধ চলে, যা প্রকৃত যুদ্ধের চিত্রকে আড়াল করে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সেনাপ্রধান বলেন, ‘তবে আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, সাফল্যের একমাত্র বাস্তব ও কার্যকর ভিত্তি সব সময়ই হবে ভূখণ্ড। ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতেই বিজয় পরিমাপ অতীতে হয়েছে, বর্তমানে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। আর সেই ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত রাখা ও প্রতিরক্ষা সম্ভব হবে কেবল সেনাবাহিনীর মাধ্যমে।’






























