রংপুরের পীরগঞ্জে এক ভূমিদস্যু ও ওসি’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন

রংপুরের পীরগঞ্জে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে কোটি টাকা মুল্যের জমি দখল করায় ভূমিদস্যু মাসুম আকন্দ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ওসি (তদন্ত) এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী পরিবার।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম মন্ডল, সাংবাদিক কবি-সাহিত্যিক স্বাপ্তাহিক বজ্রকথা’র সম্পাদক ও প্রকাশক সুলতান আহমেদ সোনা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, পৌর বিএনপি নেতা আব্দুল করিম সরকার, পৌর যুবদল নেতা একরামুল হক প্রমুখ।

ভূক্তভোগী পরিবার জানান, ৯৩৬০ দলিলে ১৯৮৭ সালে হুজুর আলী মন্ডল ও ১৯৯৪ সালে ৩৫৬৫ দলিলে মোখলেছার রহমানের নিকট থেকে মৃত তসলিম উদ্দিন মন্ডল ওসমানপুর মৌজায় ১০৯১ দাগে ২২.৫ শতক জমি ক্রয় করে। ৩৯ বছর ধরে মরহুম তসলিম উদ্দিন ওরফে ভূলু মন্ডল এবং তার ওয়ারিশরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছিল। নিয়মিত খাজনা-খারিজ পরিশোধসহ ৬১৬ নম্বর খতিয়ানে বর্তমান মাঠ রেকর্ড ও প্রিন্টপর্চা রয়েছে তসলিম উদ্দিনের নামে।

উক্ত দাগে চার লেন মহাসড়কে ৪ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহনকৃত জমির অর্থ উত্তোলন করতে গিয়ে মাসুদ আকন্দ গং রংপুর ডিসি অফিসে শরিক হিসাবে আপত্তি দাখিল করেন। একাধিকবার আপত্তি শুনানি নিষ্পত্তি’র পর তছলিম উদ্দিনের ওয়ারিশদের নামে অধিকরণের প্রাপ্ত অর্থের চেক ইস্যু করেন রংপুর ডিসি অফিসের জমি অধিকরণ শাখা। বিগত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারী হঠাৎ মাসুম আকন্দ গংরা জমির চতুর্দিকে টিনের বেড়া দিয়ে জমি দখলে নিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। মৃত তসলিম উদ্দিনের ছেলেরা অবৈধভাবে জমি দখলের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।

থানা পুলিশ আদালতে মামলার করার পরামর্শ দেন। নিরুপায় হয়ে তছলিম উদ্দিনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম মন্ডল রংপুর অতিরিক্ত বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা রুজু করেন। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শামীম হোসাইন আদালতে সরেজমিন প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ণিত দলিল মূলে, বর্ণিত দাগে মরহুম তসলিম উদ্দিন মন্ডল ভোগ দখল করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণের ভোগ দখলে ছিল।

কিন্তু প্রতিপক্ষ মাসুম আকন্দ গং ওই নালিশি জমি বলপূর্বক বেদখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিতে গেলে বাদী পক্ষের লোকজনকে শারীরিকভাবে প্রহার করেন। এদিকে আদালত গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রংপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৪/১৪৫ ধারা (২৭৫/২৫) রায় প্রদান করে জানান, জমিতে প্রতিপক্ষ গংদের প্রবেশাধিকারে বারিত করা হয়।

ওসি পীরগঞ্জ থানাকে আদেশ বাস্তবায়নে নির্দেশ প্রদান করা হলে ওসি তদন্ত নাহিদ ইসলাম অবৈধ দখল চেষ্টা প্রতিহত না করে তদন্ত ও আপষ-মীমাংসার কথা বলে কালক্ষেপণ করে প্রতিপক্ষকে জমিতে অবকাঠামো নিমার্ণে সুযোগ দিচ্ছেন। এছাড়া মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে তিনি এমনটা করেছেন মর্মে মানববন্ধনে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুম আকন্দকে (০১৭৯৬০৯৮৭১১) একাধিকবার কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ওসি তদন্ত নাহিদ ইসলামের সরকারি নম্বরে (০১৩২০১৩১৫১২) বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।