রংপুরের পীরগঞ্জে ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষাণ কৃষাণীরা

রংপুরের পীরগঞ্জে মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। ধানের শীষে শীষে ভরে গেছে বিস্তীর্ণ মাঠ। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারিদিক। এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে যেন হাসির ঝিলিক। ইরি-বোরো মৌসুমের ধান ঘরে উঠাতে কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক-কৃষাণীরা।
তাই কাক ডাকা ভোরে ঠান্ডা ভাত কিংবা লবন পান্তা খেয়ে কাস্তে হাতে বেরিয়ে পড়েন চুক্তিতে ধান কাটার জন্য। তারা এতটাই ব্যস্ত যে, দুপুরের খাবারটাও মাঠে বসেই সেরে নিচ্ছেন। মজুরীও পাচ্ছেন বেশ। কোথাও কোথাও হার্ভেস্টারের মাধ্যমেও ধান কাটা-মাড়াইয়ের হিড়িক পড়েছে।
পীরগঞ্জ কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ৪শত ৭৫ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার মেট্রিক টন ধান।
আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং সুষ্ঠুভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারলে আরো বেশী ফলনের আশা কৃষি বিভাগের। এবারে যেসব ধান আবাদ হয়েছে তার মধ্যে বিআর- ১০০, ১০৫, ১০৮, জিরাশাইল ও হাইব্রিড প্রজাতির উল্লেখযোগ্য।
কৃষকরা জানায়, রোপণ থেকে শুরু করে ঘরে উঠনো পর্যন্ত শ্রমিক, সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচ। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানে তেমন কোনো রোগবালাই হয়নি। এছাড়া ফলনও হয়েছে ভালো হয়েছে। ন্যায্য মূল্য পেলে এ উপজেলার মানুষের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
ধান চালের জন্য খ্যাত উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী এলাকার সফল কৃষক মাহামুদুল আলম বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। এবার ধানে পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। এ কারণে কীটনাশকের খরচও কম হয়েছে। চৈত্রকোল ইউনিয়নের চককৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বছর সার, কীটনাশক, জ্বালানি তেল ও শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফসল উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
সে তুলনায় বর্তমান খোলা বাজারে প্রতিকেজি ধানের মূল্য ৩১/৩২ টাকা। যা উৎপাদন আয়-ব্যয় প্রায় সমান সমান। তবে সরকার কর্তৃক খাদ্য গুদামে নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা। কিন্তু খাদ্য গুদাম ধান দিতে গেলেও অনেক ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, ইরি-বোরো আবাদের জন্য উপজেলায় ৪ হাজার ২শত জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার প্রণোদনা হিসেবে কৃষি অফিস থেকে প্রদান করা হয়।
এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচ শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকরা সুষ্ঠুভাবে ধান ঘরে তুলতে পারবেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের পরামর্শও প্রদান করেন তিনি।


























