দুই হেভিওয়েট বিএনপি-জামায়াত প্রার্থী

রাজশাহী-১ গোদাাগড়ী-তানোর আসনে ফাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে আদিবাসী ভোটার

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বিই প্রার্থী হলেন জনপ্রিয়। যদিও এখানে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে। তাঁরা হলেন, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন এবং জামায়াত ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, এই আসনে বিএনপি-জামায়াতের তুমুল লড়াই হবে। তবে এখানে আদিবাসীদের ভোট ব্যাংক এখন ফাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে। এই আসনের দুটি উপজেলাতেই প্রায় ৮০হাজার আদিবাসীর ভোটার রয়েছে। ফলে আদিবাসীরা যেদিকে গড়াবেন, জয়ের পাল্লা সেদিকেই গড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র মতে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫ প্রার্থী হলেন, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন এবং জামায়াত ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আব্দুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মীর শাহজাহান ও স্বতন্ত্র আল সাআদ। এই পাঁচজনের মধ্যে প্রচারণায় চালাচ্ছেন তিনজন। তাঁরা হলেন, শরিফ উদ্দিন, মুজিবুর রহমান ও আব্দুর রহমান মুহাসেনী।

৫২ রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯১০ জন। আর তানোর উপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭০ জন। গোদাগাড়ীতে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩২ জন। আর নারী ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৫ জন। তানোরে পুরুষ ভোটার ৮৪ হাজার ৫৪৬ জন। কিন্তু নারী ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ৩২৪ জন।

গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলায় ৪টি পৌরসভা ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ৭৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ আসনটিতে এবার এই প্রথম লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে। তবে এবার দুই প্রার্থীই শক্তিশালী হওয়ায় ভোটের লড়াই জমে উঠেছে বেশ।

গোদাগাড়ীর রিশিকুল এলাকার বাসিন্দা আলি আসগর বলেন,এবার মনে হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। তবে জয় নির্ধারিত হতে পারে আদিবাসীদের ভোটে। ফলে ভোট পেতে তাঁদের কাছে দুই দলের লোকজনই যাচ্ছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল ও প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক গোদাগাড়ী-তানোরে মন্ত্রী থাকাকালীন,রাস্তা ঘাট,স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসাসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। সেই কারণে তার সহোদর ছোট ভাই মেজর জেনারেল(অবঃ) শরীফ উদ্দীনকে দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে জনগণ ইনশাআল্লাহ।

গোদাগাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির নুমায়ন আলী বলেন,“আমরা কারও নামে হয়রানিমূলক মামলা করি না। নির্বাচনে জিতলেও বা হারলেও কাউকে ক্ষতি করি না। আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের রায়ে। এখন শুধু অপেক্ষা রাজশাহী-১ আসনে এমপি হিসেবে ভোটাররা কাকে বেছে নেন।