২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানকে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ নিয়ে রহস্য

চলতি বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনৈতিক বৈরিতাই যেন বেশি চেপে বসেছে ইরানের ওপর। ইরানের ফুটবলারদের সঙ্গে চরম অন্যায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের ন্যূনতম বিশ্রাম নিতেও দেওয়া হচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব খেলায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের ফুটবল দলকে আমেরিকায় বেশি ক্ষণ থাকতে দিতে রাজি নয় ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের ফুটবল দলের অভিযোগ, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করার পর মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফাও এই বৈষম্যমূলক আচরণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খেলা শেষে আমাদের বলা হলো মাত্র ২ ঘণ্টা সময় আছে। তার মধ্যে মেক্সিকো রওনা হয়ে যেতে হবে। একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর ফুটবলারদের বিশ্রামের প্রয়োজন হয়, দীর্ঘ শারীরিক ধকল সামলাতে হয়। কিন্তু খেলা শেষে ফুটবলারদের আবার তাৎক্ষণিক বিমানযাত্রার ধকল সামলাতে হচ্ছে, যা পুরোপুরি অন্যায়।

কোচ আরও জানান, শুধু ফুটবলাররাই নন, এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অন্যায়ের শিকার হচ্ছে ইরান। ট্রাম্প প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে তাদের ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের আসতে দেওয়া হয়নি, সাংবাদিকদের আসার অনুমতি মেলেনি, এমনকি ম্যানেজমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেরও ভিসা দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের ছাড়াই আমেরিকায় খেলতে নামতে হয়েছে দলকে। ভিসা না পাওয়া সেই তালিকায় ইরান ফুটবল সংস্থার সভাপতি মেহদি তাজও রয়েছেন।

ভিসা জটিলতার কারণে প্রথমে ইরানের খেলোয়াড়দের আমেরিকায় ক্যাম্প করার কথা থাকলেও পরে তা মেক্সিকোতে সরিয়ে নিতে হয়। মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় খেলতে আসতে বিমানে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগছে। অর্থাৎ, খেলার আগের দিন ৫ ঘণ্টা বিমানযাত্রা করতে হচ্ছে ইরানের ফুটবলারদের। এরপর ম্যাচ খেলে ২ ঘণ্টার মধ্যে আবার ৫ ঘণ্টার ফিরতি বিমানযাত্রার জন্য তৈরি হতে হচ্ছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার এমন দীর্ঘ বিমানযাত্রায় ফুটবলারেরা চরম ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের খেলার পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ইরান শিবির।