ভয়ে ঘাঁটি ছাড়ছে মার্কিন সৈন্যরা
৪৮ ঘন্টার মধ্যে ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা

পা পাড়িয়ে ইরানে সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছে সামরিক হামলা চালানোর,অন্যদিকে ইরানের সিংহ খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্রের আগায়।
এই হুংকারে তল্পিতল্পা গুটিয়ে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদ ঘাঁটি ছেড়ে মার্কিন সেনাদের সাময়িকভাবে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আমেরিকা ইরানে হামলা চালাতে পারে।তিনজন কূটনীতিকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
কূটনীতিক সূত্র জানান, বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সেনা সদস্যদের ঘাঁটির ভেতরে অবস্থান পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কারণ জানানো হয়নি। দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি ভয়াবহ যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়বে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—যার প্রভাব বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারেও পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আল-উদেইদে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। রয়টার্সকে এক কূটনীতিক বলেন, “এটি ঘাঁটি পরিত্যাগ নয়, বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া একটি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান পরিবর্তন।”
এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করেই পাল্টা হামলা চালানো হবে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত রাখে, তাহলে ওয়াশিংটন সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে।
এদিকে সৌদি সরকার ও সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র বুধবার বার্তাসংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে না। একই সঙ্গে সৌদি ভূখণ্ড ও আকাশসীমাও ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সরকার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে জানানো হয়েছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো রয়েছে, যার মধ্যে সৌদি আরব একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলার এক সপ্তাহ আগেই দোহার আল-উদেইদ ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর জবাবে ইরান সীমিত পরিসরে ওই ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।






























