ইউসেপের আয়োজনে খুলনায় অনুষ্ঠিত হলো চাকরি মেলা-২০২৫

খুলনায় বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে “চাকরি মেলা-২০২৫”। অস্ট্রেলিয়ান এইড ও গ্রিভেট প্রকল্পের অর্থায়নে ইউসেপ বাংলাদেশ, খুলনা অঞ্চলের উদ্যোগে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ইউসেপ খুলনার আঞ্চলিক কার্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা এই চাকরি মেলায় দেশি-বিদেশি মোট ২৭টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে সরাসরি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহ করে এবং স্পট ইন্টারভিউ গ্রহণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে চাকরি প্রদানের কার্যক্রম শুরু করে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের উপস্থিতিতে বেলুন উড্ডয়ন ও কেক কাটার মাধ্যমে চাকরি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউসেপ খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ইউসেপ বাংলাদেশ ১১টি ট্রেডের পাশাপাশি সফট স্কিল ও অটোমেশনের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে যুবক-যুবতীদের দক্ষ করে গড়ে তুলছে। প্রতি বছর এখান থেকে প্রায় দুই হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে চাকরিতে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, ইউসেপ বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান, যারা সমাজের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি সফট স্কিল ও কমিউনিকেশন স্কিলের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন, দেশে এখনো সাধারণ শিক্ষার প্রতি ঝোঁক বেশি, কিন্তু স্কিলভিত্তিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ মাত্র ১৪ শতাংশ। দক্ষ নাগরিক গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সিফাত মেহনাজ বলেন, বিশ্বজুড়ে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। ইউসেপ বাংলাদেশ হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ নাগরিক গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. বি.এম. ইকরামুল হক বলেন, আগামী দিনের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে টেকনিক্যাল জ্ঞান অপরিহার্য। দক্ষ নাগরিকও একটি দেশের বড় রিজার্ভ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউসেপ বাংলাদেশের পরিচালক (পিপল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) এ.এম.এম. মহসিন। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ইউসেপ বাংলাদেশ সমাজভিত্তিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য স্কিল নিয়ে কাজ করবে এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের দক্ষ জনবলকে প্রশিক্ষণে যুক্ত করবে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউসেপ বাংলাদেশের পরিচালক (পাবলিক পার্টনারশীপ ম্যানেজমেন্ট) আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদাউস খান, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গণিত বিভাগের অধ্যাপক ও ইউসেপ খুলনা অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সদস্য ড. বি.এম. ইকরামুল হক, মিতালী ফুডস লিমিটেডের পরিচালক ও ইউসেপ খুলনা অ্যাডভাইজারি কাউন্সিলের সহ-সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ আকন্দ এবং ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের হেড অব এইচআর মো. মিজানুর রহমান খান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যবসায়ী সমাজের সদস্য, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চাকরি মেলায় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অংশগ্রহণ করে ওয়ালটন গ্রুপ, প্রাণ গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ (শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরি), নাভানা গ্রুপ, ম্যাটাডোর, অনার বাংলাদেশ, হোন্ডা বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড, ট্রান্স এশিয়া (উত্তরা মোটরস), সুপার ফর্মিকা অ্যান্ড ল্যামিনেশন লিমিটেড (টি.কে গ্রুপ), ডাচ বাংলা প্যাক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, এসপ্রিট অ্যাপারেলস লিমিটেড, ফন্ট ডেস্ক বাংলাদেশ, ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলস লিমিটেড।

সালাম জুট মিলস লিমিটেড, সেফওয়ে টেকনোলজি লিমিটেড, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, শোভন গ্রুপ, অটো ডায়নামিক্স খুলনা, আরএফএল গ্রুপ, বিডিজবস ডটকম, উজালকুর ইঞ্জিনিয়ারিং, ইউআরও গ্রুপ, আব্দুল্লাহ ব্যাটারি কোং (প্রা.) লিমিটেড, হ্যামকো, জুট টেক্সটাইলস লিমিটেড, ফার্নিচার ওয়ার্ল্ড ও সিটিজেন ল্যাবসহ খুলনার স্বনামধন্য বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

মেলায় আনুমানিক ১ হাজার ৭৮৯ জন চাকরিপ্রার্থী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দেন। স্পট ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে ৭ জনের চাকরি নিশ্চিত হয় এবং আরও ৯৭ জন প্রাথমিকভাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

চাকরি মেলার পাশাপাশি ইউসেপ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা লিন্ডসে এলান চেইনীর নামে প্রতিষ্ঠিত এল.এ. বিজ্ঞান ক্লাবের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইনোভেটিভ প্রকল্প প্রদর্শন করেন। ইউসেপ খুলনা অঞ্চলের ছয়টি টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয় এবং বিচারকদের মূল্যায়নে তিনটি প্রকল্পকে পুরস্কৃত করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সাল থেকে ইউসেপ বাংলাদেশ শহরের সুবিধাবঞ্চিত শ্রমজীবী শিশু-কিশোরদের কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানে সহায়তা দিয়ে আসছে।