অধ্যক্ষ সিকান্দারের বিরুদ্ধে
চাঁদপুরে হাজীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল কলেজে ভুয়া নিয়োগ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিকান্দারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়ে আসছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন জনপ্রতি ৭০০ টাকা হলেও বাস্তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এর চেয়ে অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নথিপত্রে নির্ধারিত অঙ্কই দেখানো হলেও অতিরিক্ত অর্থ কোনো সরকারি হিসাবে জমা না দিয়ে পৃথকভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এভাবে আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করা হচ্ছে, যা সরকারি আর্থিক বিধিমালার পরিপন্থী।
এছাড়া, কাগজে-কলমে শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন উত্তোলনের অভিযোগও উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, নথিতে যেসব নতুন শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, বাস্তবে তাঁদের অনেকেরই ক্যাম্পাসে কোনো উপস্থিতি নেই। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব তথাকথিত নিয়োগের বিপরীতে উত্তোলিত অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা আত্মীয়স্বজনের নামে প্রকল্প দেখানোর মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। কেনাকাটা ও অবকাঠামোগত সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজে পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, যা স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি সামনে এনেছে।
সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন থাকলে তা গোপন করা আইনত দণ্ডনীয়। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদ সিকান্দার তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ না করে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে হুমকি, প্রশাসনিক চাপ কিংবা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। ফলে ভয়ের পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসেনি বলেও তারা দাবি করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।





























